ঢাকা | সোমবার | ৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৮ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

দেশ গঠনে সব ধর্মাবলম্বীর ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী দেশ গড়ার কাজের জন্য সব ধর্মাবলম্বীর ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করেছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডে উপলক্ষে আগত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি সবাইকে একই চোখে দেখা এবং সমভাবে ভালোবাসার বার্তা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের সভাপতি ফিলিপ পি. অধিকারীর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে এসে শুভেচ্ছা ও শুভাকাংক্ষা প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথোপকথন করে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উন্নতি ও কল্যাণ কামনা করেন এবং তাদের শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ জানান।

সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা সব ধর্মের মানুষকে এক চোখে দেখি এবং সবাইকে একইরকমভাবে ভালোবাসি। ধর্ম যার যার, দেশটা সবার—এই বিশ্বাস থেকেই চলতে হবে।’’ তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।

এই আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীরা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রসঙ্গ সম্পর্কেও মন্তব্য করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে—যা পূর্বে প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে। তিনি আগের সরকারের আমলে দেশের নানা খাতে ভঙ্গুর অবস্থা, অর্থনীতির দুর্বলতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরে জানান যে, তখন দায়িত্ব গ্রহণের সময় পরিস্থিতি এমন ছিল যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত কোনো দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলাম।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব সামলাতে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষে বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড অসীম বাড়ৈ এবং ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার খ্রীস্টেফার মি. অধিকারী বক্তব্য রাখেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, তারা সরকারের সহযাত্রী হিসেবে কাজ করতে ইচ্ছুক। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসন থেকে খ্রিষ্টান প্রতিনিধি ও নেতারা ইস্টার সানডে সরকারি ছুটির দাবিও উত্থাপন করেন।

প্রতিনিধিদল নেতৃবৃন্দ প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য শ্রদ্ধা জানিয়েছে এবং জানান, তার প্রয়াণের পর ৭ হাজার চার্চে প্রার্থনা করা হয়েছে; বর্তমানে তারা প্রধানমন্ত্রীর জন্যও প্রতিদিন প্রার্থনা করছেন।对此 প্রধানমন্ত্রী তাদের দাবিসমূহ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন। সাক্ষাৎকারের শেষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি ক্রেস্ট উপহার হিসাবে প্রদান করা হয়।