ঢাকা | সোমবার | ৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৮ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

নু স্টেডিয়ামে মেসির জাদু, তবু অস্টিনের বাধায় জয়বঞ্চিত ইন্টার মায়ামি

ইন্টার মায়ামির নতুন ‘নু স্টেডিয়াম’ উদ্বোধনের রাতে লিওনেল মেসির ব্যক্তিগত জাদু দর্শকদের মাতালেও দলকে তিন পয়েন্ট দেননি আয়োজকরা। নবনির্মিত এই ভেন্যুর অভিষেক ম্যাচে এসেছিল প্রায় ২৬ হাজার দর্শক; বর্তমান এমএলএস চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মায়ামি ও আগন্তুক অস্টিন এফসি ২-২ গোলে ড্র করেছে।

শুক্রবার রাতের আয়োজনে ক্লাবের অংশীদার ও ফুটবল লিজেন্ড ডেভিড বেকহ্যাম ও ব্যবস্থাপনা অংশীদার হোর্হে মাসের উপস্থিতিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ফিতা কাটা হয়। আবেগবর্জিত উদ্বোধনী ভাষণে বেকহ্যাম স্মরণ করেন এমএলএসে যোগদানের সময়ের প্রতিশ্রুতি ও ১৩ বছর আগের মায়ামি ক্লাব প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন — আজ সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটেছে, বলেন তিনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই উত্তেজনাতে ভরা ছিল গ্যালারি। ষষ্ঠ মিনিটে ফাকুন্দো তোরেসের নিখুঁত কর্নার থেকে গুইলহার্মে বিরোর শক্তিশালী হেডে এগিয়ে যায় অস্টিন এফসি। গোলটি বাড়তি উৎসাহ এনে দেয় সফরকারীদের।

পিছিয়ে পড়ে মায়ামি দ্রুতই ফিরতি আক্রমণ সাজায়। অধিনায়ক লিওনেল মেসির সহায়তায় ইয়ান ফ্রের দেওয়া ক্রসে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়িয়ে মেসি মায়ামিকে সমতায় ফিরিয়ে আনেন—এটাই নতুন স্টেডিয়ামে কোনো মায়ামি খেলোয়াড়ের করা প্রথম গোল। এরপর মাচির উপর দখল বাড়াতে চেষ্টা করে স্বাগতিকরা; তবে মাতেও সিলভেত্তির দুটি সুবিধাজনক সুযোগ লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় প্রথমার্ধে বাড়তি নেতৃস্থানীয় গোল করতে পারেনি তারা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অস্টিন আবারও এগিয়ে আসে। ৫৩ মিনিটে মেসির কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে তারা দ্রুত আক্রমণ গঠন করে; জোসেফ রোসালেসের পাস থেকে মির্তো উজুনি বল জয়েন্ট করে জেইডেন নেলসন দুর্দান্ত ফিনিশে দলকে ২-১ করে এগিয়ে দেন।

পিছিয়ে পড়ার পর কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো মাঠে আনেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজকে (৭৩ মিনিট), যার ফলে মায়ামির আক্রমণভাগে প্রাণ আসে। ৮১ মিনিটে মেসির কর্ণার থেকে জার্মান বেরতেরামের ছোঁয়া পেয়ে সুয়ারেজ আলতো টক দিয়ে সমতা করেন।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। অতিরিক্ত সময়ে মেসির দুর্দান্ত ফ্রি-কিক প্রথমে সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে, পরে ফিরতি বলে সুয়ারেজ গোল করে গ্যালারি রোমাঞ্চে উত্তাল হয়ে ওঠে — কিন্তু রেফারি অফসাইডের সিদ্ধান্তে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত দুই দলই মাঠ ছাড়ে ২-২ সমতায়।

জয় না পেলেও নতুন ভেন্যুতে খেলার লড়াকু মনোভাব এবং মেসির জাদুকরী মুহূর্ত দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তবুও ঘরের মাঠে পয়েন্ট হারানো মায়ামির জন্য হতাশার কারণও রয়েছে। এখন সব নজর পরের ম্যাচে, যেখানে চ্যাম্পিয়নরা পূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের লক্ষ্যে মাঠে নামবে।