ঢাকা | শনিবার | ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বনদস্যু আতঙ্কে সুন্দরবনে মধু আহরণ থমকে গিয়েছে

পহেলা এপ্রিল থেকে সুন্দরবনে আনুষ্ঠানিকভাবে মধু আহরণ মৌসুম শুরু হলেও বনদস্যুদের আতঙ্কে কার্যত থমকে আছে মধু সংগ্রহ কার্যক্রম। পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ থেকে মৌসুমের প্রথম দিন কোনো মৌয়াল বা নৌকা বনে প্রবেশ করেনি — অভিযোগ ও ভয়ের ছাপ স্থানীয়দের মধ্যে স্পষ্ট।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একাধিক দস্যু বাহিনীর অগ্রিম চাঁদা দাবি ও সুনির্দিষ্ট হুমকির কারণে বহু মৌয়াল প্রস্তুতি নিয়ে বনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। জীবন ও সম্পদঝুঁকি বিবেচনায় তারা মধু সংগ্রহ থেকে বিরত থাকায় চলতি মৌসুমে কাঙ্খিত মধু ও মোম আহরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. খলিলুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত মাত্র ৮টি নৌকায় বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) ইস্যু করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে বিএলসির সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০টি; তৎকালীন মৌসুমের প্রথম দিনেই ২০টি নৌকায় দুই শতাধিক মৌয়াল বনে গিয়েছিলেন। এ বছর দস্যু আতঙ্কের ফলে শরণখোলা থেকে এখনও একটি নৌকাও বেরোয়নি।

তবে বনবিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেয়ার কথা বলেই জানিয়েছে তারা। মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনবিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে — নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাস গ্রহণ করলে মৌয়ালদের নৌকাবহরকে বনরক্ষীদের এসকর্ট দিয়ে বনে প্রবেশ করানো হবে, জানিয়েছেন এসও।

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দীপন চন্দ্র দাস জানান, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশন থেকে মোট ৩২টি নৌকার বিএলসি দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনে ১৭টি নৌকায় প্রায় দেড় শতাধিক মৌয়াল বনে প্রবেশ করেছেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এসিএফ দীপন বলেন, বনদস্যুদের তৎপরতার প্রভাব খালি চোখে দেখা যাচ্ছে—এই কারণে মৌয়ালদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ঝুঁকি এড়াতে মৌয়ালদের দলবদ্ধভাবে মধু সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডপ্রবণ ভোলা নদীসংলগ্ন ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর কমপার্টমেন্ট এলাকায় না যাওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব সুন্দরবনে প্রায় ১,৩০০ জন পেশাদার মৌয়াল রয়েছেন। এবছর চলতি মৌসুমে ৭০০ কুইন্টাল মধু এবং ২০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল; এই খাত থেকে আনুমানিক ২০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যদি পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হয় তাহলে শুধু রাজস্ব ঘাটতি নয়, মৌয়াল ও তাদের পরিবারেরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বেন। তাই দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবিই এখন সবচেয়ে জোরালো।