ঢাকা | শুক্রবার | ৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বলিভিয়াকে হারিয়ে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরল ইরাক

ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে দীর্ঘ ৪০ বছরের বারিধার কাটাল ইরাক। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে লাতিন আমেরিকার দল বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে খেলার টিকিট নিশ্চিত করল পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটি। ১৯৮৬ মহাদেশের পর এটিই ইরাকের প্রথম বিশ্বকাপ যোগ্যতা—একটি ইতিহাসনির্মাণ মুহূর্ত।

প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে উঠে ইরাক। ম্যাচের ১৮তম মিনিটে আলি আলমাহাদির করা চমৎকার শটে তাদের কাছে এগিয়ে নিয়ে আসে। গ্যালারিতে থাকা ইরাকি সমর্থকরা গোলটির পর উল্লাসে ভাসে। তবে ৩৮ মিনিটে বলিভিয়ার মইসেস পানিয়াগুয়া সমতা ফিরিয়ে এনে ম্যাচকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।

বিরতির পর ইরাক আবারও আক্রমণে ফিরে আসে এবং ম্যাচের ৫৩ মিনিটে আইমেন হুসেইন দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করে এগিয়ে দেন। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষের চেষ্টাকে সময়মতো সামলিয়ে শেষ সাইরেন বাজানো পর্যন্ত ২-১ সংস্করণ বজায় রেখে মাঠ ছাড়ে ইরাকি দল।

টিমের এই অনবদ্য ফিরে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছেন কোচ গ্রাহাম আরনল্ড। অস্ট্রেলিয়ান এই কোচকে এখন দেশভক্তিমূলক প্রশংসার স্রোত জানানো হচ্ছে—একটি বিরল কৃতিত্ব হিসেবে তিনি বিদেশি এক দেশের কোচ হয়ে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়ার নজির গড়েছেন। আরনল্ড মূলত খেলোয়াড়দের একাগ্রতা, দেশের জন্য কিছু করার মানসিকতাকে সফলতার মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয় পর বাগদাদের রাস্তায় হওয়া উৎসব এবং সাধারণ মানুষের উন্মাদনা খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছিল।

ইরাকের এই জয়ে এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ৪৮ দলের তালিকা সম্পূর্ণ হয়েছে। টুর্নামেন্টটি আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে। ইরাক গ্রুপ আই-তে পড়েছে—এ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, শক্তিশালী নরওয়ে এবং আফ্রিকার দুর্দান্ত দল সেনেগাল।

সূচি অনুযায়ী ইরাকের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১৬ জুন ফক্সবোরোতে নরওয়ের বিপক্ষে। এরপর ২২ জুন ফিলাডেলফিয়ায় তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ তারা খেলবে ২৬ জুন টরোন্টোতে সেনেগালের বিরুদ্ধে।

৪০ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরার আনন্দ কেবল টিমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—দেশজুড়ে উল্লাস, রাস্তায় উদযাপন, ও ফুটবলের প্রতিটি কোণে আরো একবার গজিয়ে ওঠা স্বপ্ন দেখা যাচ্ছে। ইরাক এখন শুধু অংশগ্রহণেই থেমে থাকতে চায় না; তারা গ্রুপ থেকেই চমক দেখাতে মরিয়া এবং বিশ্বের কাছে নিজেদের প্রতিভা জানানোর অপেক্ষায়।