ঢাকা | বুধবার | ১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সারাদেশে অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার তেল উদ্ধার

সরকার জ্বালানি মজুতদারি ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সহ বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অবৈধভাবে মজুত করা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারাদেশে চলমান অভিযানের ফলে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি, রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন ডিজেল কেনার জন্য বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। অবৈধ মজুতদারদের ধরতে সরকারের পক্ষ থেকে লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা হয়েছে। এ তথ্য গতকাল সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ मन्त्रालयের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী দেশের সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, অনেক মানুষ এখনো প্রয়োজনের চেয়েও বেশি জ্বালানি কিনছেন বা বাড়িতে মজুত করছেন, এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের চাহিদার তুলনায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি আরও জানান, দেশে বড় আকারে জ্বালানি তেলের মজুতদারি বাড়ছে, যা পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। সরকারের রপ্তানি পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও দুটি কার্গো জ্বালানি তেল আসছে। পাশাপাশি, রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা শিথিল (সাংশন ওয়েভার) চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এটির উত্তর পাওয়ার জন্য সরকার এখন অপেক্ষা করছে।

অতিরিক্ত বলে উঠে আসে, রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন ডিজেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও, ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা দিয়েছে। ঈদের আগে রাতে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে সেই দাবির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়, রাশিয়া থেকে দুই মাসের বা কমপক্ষে ৬ লাখ টনের ডিজেল আমদানির অনুমতি (স্যাংশন ওয়েভার) দেওয়ার জন্য। এখন সেটির জন্য অনুমতির অপেক্ষা চলছে।

অবৈধ মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে, সরকার লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যারা অবৈধ উপায়ে তেল মজুতকারীদের তথ্য সরবরাহ করবেন, তারা এই পুরস্কার পাবেন। এ ব্যাপারে গত সোমবার সরকারের পক্ষ থেকে এক নির্দেশনা জারি হয়েছে।

সরকার এই সমস্ত অভিযান এবং পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও চক্র অবৈধ উপায়ে তেল মজুত ও পাচার করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে চাইছে, যা সাধারণ জনগণের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বাজারে অস্থিরতা এবং অসন্তোষ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে, সরকার একজোট হয়ে সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে চায়। নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এই তথ্যদাতা গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, পুরস্কার প্রদানের প্রক্রিয়াও যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে।

পুরস্কারের অর্থ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। যাতে, তথ্য দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এই পুরস্কার দেশের যে কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার জন্য উন্মুক্ত, যাতে করে জনগণ তথ্য সরবরাহে উৎসাহিত হয়।