দেশের কৃষি ভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন এক বিশাল আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। এই প্রকল্পের আওতায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর সহযোগিতায় মোট ১২৫ কোটি টাকার ঋণ দেয়া হবে। এই অর্থায়নের মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করা হবে, যা উদ্যোক্তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল)-এর প্রধান কার্যালয়ে এই বিষয়ের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং বিআইএফএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. আনিসুজ্জামান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, বিআইএফএফএল এর ফুড ভ্যালু চেইন ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের তহবিল থেকে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ করা হবে, যা সংশ্লিষ্ট কৃষি ও খাদ্য শিল্পের উদ্যোক্তাদের সুবিধা বাড়াবে।
এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো খাদ্য চেইনের উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি। বিশেষভাবে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এই কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এতে ফল, শাকসবজি, মসলা, চাল-ডাল প্রক্রিয়াজাতকরণ, ভোজ্য তেল, বীজ প্রক্রিয়াকরণ, জৈব সার ও বায়োপেস্টিসাইড উৎপাদনসহ সংশ্লিষ্ট হোলসেল, লজিস্টিকস ও খুচরা বিক্রয় খাতগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এছাড়া, মূলধনী বিনিয়োগের জন্য যন্ত্রপাতি ক্রয়, কারখানা উন্নয়ন, গুদাম নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নেও অর্থায়ন করা হবে। উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ সেবা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি, খাদ্য নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সার্টিফিকেশন যেমন আইএসও, এইচএসিসিপি ও হালাল সার্টিফিকেশন অর্জনে সহায়তা প্রদান করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজিম হাসান সাত্তার, মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. আব্দুর সালাম সরদারসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের খাদ্য ভ্যালু চেইন আরও শক্তিশালী হবে, আমদানি নির্ভরতা কমবে, রফতানির সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে—এ বিষয়গুলো বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠান মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশই এসএমই—যা শিল্প খাতে মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ নিয়ে গঠিত, যেখানে তিন কোটি মানুষ কাজ করছেন। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসএমই ফাউন্ডেশন বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ উদ্যোক্তাকে সহায়তা দিয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ নারী। সংস্থাটি জাতীয় শিল্পনীতি, এসএমই নীতিমালা, ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।














