ঢাকা | বুধবার | ১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

এনবিআর চালু করবে বছরভর ত্রৈমাসিক কর রিটার্ন ব্যবস্থা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বছরজুড়ে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কর রিটার্ন দাখিল করার একটি নতুন পদ্ধতি চালু করার পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি একটি বড় সংস্কার পরিকল্পনার অংশ, যার উদ্দেশ্য রাজস্ব সংগ্রহ আধুনিকায়ন করা এবং দেশের কল্যাণমন্ত্রীপর্যায়ে রূপান্তরকে সহায়তা করা।

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, বছরের চারটি কোয়ার্টারে রিটার্ন ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে ট্যাক্সপেয়ারদের অনুপ্রাণিত করা হবে যাতে তারা দ্রুত এবং নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করে।

চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সূত্রে জানা যায়—ফার্স্ট কোয়ার্টারে যারা রিটার্ন দেবেন তাদের ইনসেন্টিভ বা রিবেট দেওয়া হবে; সেকেন্ড কোয়ার্টার হবে রেগুলার ফাইলিং; থার্ড কোয়ার্টারে দাখিল করলে একটু বেশি পরিশোধ করতে হবে এবং ফোর্থ কোয়ার্টারে দাখিল করলে আরেকটু বেশি হবে। অর্থাৎ করদাতারা সিদ্ধান্ত নেবেন তারা দ্রুত রিটার্ন দিয়ে রিবেট নেবেন, নাকি পরে গিয়ে বেশি করে কর দেবেন। একই নীতিই কর্পোরেট ট্যাক্স ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে।

এনবিআর আরও জানিয়েছেন, কর ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সম্পদ কর পুনরায় চালু করা এবং উত্তরাধিকার কর導র বিষয়ে বিবেচনা চলছে। এই ধরনের করগুলো রাজস্ব বর্ধনের পাশাপাশি আয়বণ্টন ও বৈষম্য হ্রাসে সাহায্য করবে বলে তারা মনে করছে।

কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকিং সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে করদাতাদের বারবার বিভিন্ন ব্যাংক থেকেও সার্টিফিকেট সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না। অনলাইনে লগইন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার ধরণের তথ্য রিটার্নে চলে আসবে—৩০ জুন তারিখের ক্লোজিং ব্যালেন্স, সমগ্র বছরে প্রাপ্ত মুনাফা, কেটে নেওয়া ট্যাক্সের পরিমাণ এবং ব্যাংক চার্জ। এগুলি করদাতাই দেখতে পারবেন; এনবিআর অফিসারদের এই ব্যক্তিগত তথ্য দেখার অধিগম্যতা থাকবে না।

এনবিআর বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পদের মালিকানা ও ভাড়া আয়ের অনেক তথ্যও শনাক্ত করছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় তথ্যের উপর নির্ভরতা কমিয়ে রাজস্ব তথ্য এখন iBAS সিস্টেম ও ট্রেজারি রেকর্ডের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হচ্ছে।

ভ্যাট সেক্টরে বড় ঘাটতির বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। আনুমানিক দুই লাখ কোটি টাকার খুচরা লেনদেন থাকা সত্ত্বেও নিবন্ধিত ভ্যাটদানকারী মাত্র আট লাখ—অর্থাৎ সম্ভাব্য প্রায় আশি লাখ ভ্যাটদাতা থেকে অনেকেই অনিবন্ধিত। এই ফাঁক কমাতে নিবন্ধন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এনবিআর জানিয়েছে, চলতি অগ্রগতির ধারায় ইতিমধ্যে ৪২ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। ৯০ দিন সময় বাড়ানোর আবেদন হিসেবে প্রাপ্ত প্রায় ২০ হাজার ইলেকট্রনিক অনুরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এছাড়া, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায় গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নতুন টাস্কফোর্সের কার্যক্রমের ফল বলে বোর্ড মনে করছে।

এনবিআরের এই পরিকল্পনা চালু হলে করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিল সহজতর হবে, প্রশাসনিক ত্রুটি ও কর ফাঁকির সুযোগ কমবে এবং রাজস্ব সংগ্রহ স্থিতিশীলভাবে বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।