ঢাকা | মঙ্গলবার | ৩১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১২ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পৃথক প্রতিদ্বন্দ্বিতা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে দুটি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা আলাদা আলাদা প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে। আর্জেন্টিনা যেখানে নিজেদের ঘরের মাঠে আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়াকে আতিথ্য দেবে, সেখানে ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে লড়বে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচটি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ, চূড়ান্ত দল নির্বাচন করার আগে কোচেরা খেলোয়াড়দের যাচাই-বাছাইয়ের সবচেয়ে বড় সুযোগটি পাচ্ছেন।

আর্জেন্টিনার জন্য গত শনিবার মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় পেয়েছে, তবে কোচ লিওনেল স্কালোনি পুরো দলটির পারফরম্যান্সে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হননি। বিশেষ করে ম্যাচের প্রথমার্ধে তারা আধিপত্য দেখালেও, দ্বিতীয়ার্ধে দলের প্রধান খেলোয়াড় লিওনেল মেসির উপস্থিতিতেও গোলের সংখ্যা বাড়াতে পারেননি। তাই এই আর্জেন্টিনার জন্য এটি শেষ টেস্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে স্কালোনি তার বিভিন্ন খেলোয়াড়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করেছেন।

জাম্বিয়াদের বিরুদ্ধে ম্যাচে আর্জেন্টিনার খেলায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মূল গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে বিশ্রাম দিয়ে জেরোনিমো রুল্লিকে দেখা যেতে পারে। রক্ষণ ভাগে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দি, তাগলিয়াফিকো, অগাস্টিন গিয়াই এবং লুকাস মার্তিনেসের খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যমাঠে লেয়ান্দ্রো পারেদেস ও তরুণ ফুটবলার গুলিয়ানো সিমিওনেদের নিয়ে কোচের পরিকল্পনা সম্ভব। আক্রমণে, অধিনায়ক মেসির খেলা এখনো নিশ্চিত না হলেও, তিনি ফ্লাকো লোপেজের সাথে জুটি বাঁধতে পারেন। পাশাপাশি, বিস্তৃত মাঠে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ভ্যালেন্টিন বার্কো এবং জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির প্রত্যাশা থাকছে।

অপরদিকে, ব্রাজিলের জন্য বর্তমানে সময়টি বেশ কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। কোচ কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে তারা এখনও তাদের মূল ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে। শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ২-১ হারের পর, মানসিকভাবে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাজিল। বিশ্বকাপের আগে ৭ জুন মিশরের বিপক্ষে তাদের খেলাটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিকে তারা প্রধান পরীক্ষা বলে মানছেন। অরল্যান্ডোতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জেতাকে কেন্দ্র করে ব্রাজিলের প্রত্যাশা উচ্চ, যদিও রাফিনিয়ার ইনজুরি ও ভিনিসিয়ুসের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের অভাব মাথাব্যথার কারণ।

ব্রাজিলের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের আক্রমণ ও মধ্যমাঠের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি করা, ক্যাসেমিরোসহ অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ফিরিয়ে আনাতে হবে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ক্লাবের মতো জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। দেশের জন্য এই ম্যাচগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে দুই দলই নিজেদের শক্তি দেখাতে মুখিয়ে রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, জয়ের মাধ্যমে তারা নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চাইবে ও ফুটবল বিশ্বকে শক্তিশালী বার্তা দিতে। খেলোয়াড়দের প্রীতি ম্যাচে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখার জন্য ভক্তদের অপেক্ষা এখন চরমে।