সরকারের চলমান অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করা জ্বালানি তেল উদ্ধারে বড় অগ্রগতি হয়েছে। গত ৩০ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে এক যৌথ অভিযানে মোট ৮৭,৭০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে—এর মধ্যে ডিজেল ৬৭,৪০০ লিটার, অকটেন ৬৪৪ লিটার এবং পেট্রোল ১৩,৮৫৬ লিটার। এখন দেশে মোট জ্বালানি তেলের মজুদ ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সার্বিক জ্বালানির পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
যুগ্মসচিব জানান, দেশের জ্বালানি মজুদ বর্তমানে স্থিতিশীল—ডিজেলের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন, পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েল ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে জ্বালানির সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে এবং সামনে আসা হজ মৌসুমকেও মাথায় রেখে জেট ফুয়েলের মজুদ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
যুগ্মসচিব আরো বলেন, চলমান অভিযানগুলো থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মজুদের ঘটনা ব্যাপক। ওই দিন সারাদেশে মোট ৩৯১টি অভিযান পরিচালিত হয়; এসব অভিযানে ১৯১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৯ লাখ ৩ হাজার ৫৭০ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে—সাতক্ষীরায় এক ব্যক্তিকে দুই বছর, চাঁদপুরে এক বছর এবং অন্য এক স্থানে এক মাসের কারাদণ্ড।
অভিযানের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, এ পর্যন্ত মোট ৩,৫৫৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে ১,২৪৪টি মামলা দায়ের এবং ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চলমান অভিযানের আওতায় এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে—যেখানে রিপোর্ট অনুযায়ী ডিজেল ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫ লিটার, অকটেন ২৮ হাজার ৯৩৮ লিটার এবং পেট্রোল ৬০ হাজার ২ লিটার উদ্ধৃত হয়েছে।
জ্বালানি তদারকিতে নতুন উদ্যোগ হিসেবে সরকার সারাদেশে ফিলিং স্টেশনভিত্তিক ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ করেছে। ঢাকা বিভাগে ১৩ জেলায় ৪৭৯ জন এবং মহানগর এলাকায় ১১৬ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জেলায় ৩৩০ জন এবং মহানগরে ৬২ জন কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগেও একইভাবে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মহড়া পর্যালোচনা করে যুগ্মসচিব বলেন, এসব ট্যাগ অফিসারের নিবিড় তদারকির ফলে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আরও বাড়বে এবং অবৈধ মজুদ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।












