ঢাকা | শনিবার | ২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ইরান দাবি: মধ্যপ্রাচ্যে ১৭টি মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস

ইরান জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ১৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ধ্বংস করেছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রবক্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেখারচি এই দাবি করেন—লাইন অনুযায়ী শুক্রবার (২৭ মার্চ) মেহর নিউজ এ খবরটি প্রকাশ করেছে।

শেখারচি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্যে) যুক্তরাষ্ট্র যে ১৭টি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল, সেগুলো ইরানি বাহিনী ইতোমধ্যেই উৎখাত করেছে এবং সেগুলো রক্ষা করতে মার্কিন বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এসব তথ্য জানানোর সময় দাবি করেন, ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি থেকে শুরু করে কৌশলও বদলে গেছে।

তিনি ইঙ্গিত করে বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের পর থেকেই ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক নীতি থেকে সরে এসে আরও আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করেছে। এর ফলে প্রতিশোধ ও সুরক্ষা কর্মসূচিতে পরিবর্তন এসেছে, এমন সংবেদনশীল ভাষায় তিনি পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

শেখারচি আরও বলেন, ‘‘গত ৪৭ বছরে ইরান কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।’’ তবু তিনি সতর্ক করেন, কেউ যদি ইরানের ওপর হামলা চালায় তবে তারা পাল্টা জবাব দেবে এবং শত্রুকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করা হবে।

তিনি বলেন, শত্রুকে শাস্তি দেওয়া এবং তাদের হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে তিনি অভিযুক্ত করেন যে, গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখে আঞ্চলিক দেশগুলোকে ‘নিরাপত্তার নামে’ প্রভাবিত করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আর আগের মতো হবে না; যুদ্ধ শেষ হলেও ইরান যে শর্তগুলো নির্ধারণ করেছে সেগুলো মানতে হবে।

শেখারচি আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে আশ্রয় না দেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো দেশ যদি তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ দেয়, তাহলে তারই পরিণতি ভোগ করতে হবে।

অবশেষে তিনি জানান, ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা অব্যাহতভাবে বাড়িয়ে তুলছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল থাকার প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করেন।