ঢাকা | শনিবার | ২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ফরিদপুরে সালথায় পাটগুদায় অগ্নিকাণ্ড, ব্যবসায়ীর দাবি ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি

ফরিদপুরের সালথায় একটি পাটের গুদামে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার নয়—শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল আনুমানিক আটটার দিকে সদর উপজেলার সালথা বাজারপূরু সড়কের পাশে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

আগুন লাগার ফলে তিনটি দোকান পুড়ে গেছে; গুদামে রাখা প্রায় ৩৫০ মন পাট এবং ৩০ মন মসুরের ডালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পাট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, আগুনে তার ন্যূনতম ক্ষতিই ৩০ লাখ টাকা। তিনি বললেন, ‘‘গুদামের টিনশেডের ওপরে অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুতের তার টানা ছিল। আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে চালের উপর থেকে ওই তার ছিঁড়ে পড়ে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন পাশের নজরুল ও মাসুদের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।’’

খবর পেয়ে সালথা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা আবদুল জলিল প্রাথমিকভাবে জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তিনি ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক ধারণা প্রায় ২৫ লাখ টাকা এবং উদ্ধার করা মালামালের মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে জানান।

সালথা বাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, এলাকার নানা স্থানে দোকান ও মার্কেটের ওপর ও আশপাশ দিয়ে অগোচরেই তার টেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, ফলে মাঝেমধ্যে এমন দুর্ঘটনা ঘটে।

সালথা বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম রেজাউল করিম বলেন, ‘‘আগুন লাগলেই সাধারণত আমাদের ওপর দোষ চাপানো হয়। এখানে কীভাবে আগুন লেগেছে তা সঠিকভাবে কেউ জানে না—গুদামের ভেতর থেকেই আগুন শুরু হয়ে পরে তার ছিঁড়ে পড়তে পারে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে; তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দীন বলেন, তারা বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে লাইনের মানোন্নয়ন এবং সঠিকভাবে স্থাপন নিশ্চিত করবেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।

প্রাথমিক তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চলছে, এবং স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগ ঘটনার কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।