নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ প্লে-অফ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করলো চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি। দীর্ঘ ১২ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফিরে যাওয়ার পথে আজ্জুরিরা এখন এক ধাপ আরও এগিয়ে।
গত বৃহস্পতিবার বের্গামোতে খেলা হওয়া এই ম্যাচে ইতালি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখালেও প্রথমার্ধে আইরিশদের ঘন রক্ষণ এবং গোলরক্ষক পিয়ার্স চার্লসের প্রতিরোধ উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত সৃষ্টি করেছিল। সময়ক্ষেপণ ও কঠোর প্রতিরোধে তারা প্রথমার্ধে ইতালির আক্রমণ থামাতে সক্ষম হয়।
বিরতির পরও ম্যাচটি সমান কাঁটায় এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইতালি আক্রমণগত ধার বজায় রেখে অর্জন করল সুফল। মধ্যমাঠের ধারক তোনালি ডি-বক্সের বাইরে থেকে দুর্ধর্ষ শটে বল জালে পাঠিয়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন। ওই সুযোগ তৈরি হয় আইজ্যাক প্রাইসের দুর্বল ক্লিয়ারেন্সের সুযোগে।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে স্ট্রাইকার কিন একটি ব্যক্তিগত বৈজ্ঞানিক চাল থেকে ম্যাকনভিলকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় গলটি নিশ্চিত করলে জয় উল্লাসে পরিণত হয়। এই জয়ের ফলে ইতালি আগামী মঙ্গলবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের চূড়ান্ত টিকিটের ম্যাচ খেলবে।
ইতালির জন্য টানা দুটি বিশ্বকাপ মিস করার পর এটা ছিল বড় স্বস্তির জয়। কোচ জেনারো গাত্তুসো ম্যাচটির গুরুত্ব সম্পর্কে পুনরায় জোর দিয়েছেন; তিনি এটিকে তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবে উল্লেখ করেন। খেলায় গ্যালারি থেকে মাঠ পর্যন্ত উত্তেজনার রেশ স্পষ্ট ছিল—আশা ও প্রত্যাশার মিশেলে পুরো দল এবং সমর্থকেরা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিল।
এই জয় ইতালিকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পথে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। মঙ্গলবার রাতে বসনিয়াকে পরাস্ত করতে পারলেই ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে দেখা যাবে এই ফুটবল পরাশক্তিকে।
খেলায় কিছু মিশ্র অনুভূতি ছিল—প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ, কিছু নৈপুণ্যপূর্ণ আক্রমণ, এবং শেষ পর্যন্ত গোলের সুবাদে ছড়িয়ে পড়া উল্লাস। ইতালির খেলোয়াড় ও সমর্থকরা এখন আগামী ম্যাচে পূর্ণ শক্তি দিয়ে মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আর ফুটবল ভক্তরাও অপেক্ষায় যে আজ্জুরিরা বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরে আসবে কি না।














