মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে শুরু হওয়া অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ঝড় তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফরোয়ার্ড রোনান বেঞ্জামিন প্যাট্রিক সুলিভান। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ দারুণ শুরু করে—উভয় গোলই রোনানের পা থেকে এসেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই হল ভরা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ভাই দুই—ডেকলান ও রোনান সুলিভান। ডাগআউটে বসে থাকা ডেকলানকে পাশে নিয়ে মাঠে নামা রোনান দেখিয়ে দিলেন কেন তাঁকে নিয়ে এত প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নানি সুলতানা আলমের বাংলাদেশি বংশের প্রতি টান থেকেই লাল-সবুজ জার্সি গলায় তুলে নেওয়া এই তরুণ ফরোয়ার্ডের অভিষেক ম্যাচ জোড়া গোলে স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি।
ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি প্রথমার্ধে বাংলাদেশ দখল করে রেখেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল করতে পারেনি। কয়েকটি সুযোগ তৈরি হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানের রক্ষণ যেন টিকে ছিল। বিশ্রতি পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র পরিস্থিতি থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে পুরো দৃশ্যপট বদলে যায়।
৫৪ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রি-কিকে এগিয়ে এসে বল নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রোনান। সতীর্থ ফয়সালের অনিচ্ছা সত্ত্বেও অদম্য আত্মবিশ্বাসে নেওয়া সেই বুলেট-গতির শট সরাসরি জালে জড়িয়ে যায় এবং গ্যালারিতে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়।
এক গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণ পর পাকিস্তান নেট জ্বালালেও সেটি গোলরক্ষককে ফাউল করা থাকায় রেফারি বাতিল করে দেন। এরপর ৬৭ মিনিটে রোনান আবারও ক্লাস দেখান—সতীর্থ শেখ সংগ্রামের নিখুঁত লং পাস পেয়ে দারুণ হেডে দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচ নিশ্চিত করেন।
রোনানের জোড়া গোলের পর পাকিস্তান কাঁপুনি অনুভব করে এবং বাকি সময় বাংলাদেশ ম্যাচটি একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করে সহজ জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচ শেষে দুই ভাই লাল-সবুজের পতাকা কাঁধে নিয়ে সমর্থকদের অভিবাদন নেন এবং আগামী ২৮ মার্চ ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ জেতার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রোনান ও ডেকলানের অসাধারণ পারফরম্যান্স শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকেনি—সুদূর যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিবারও ম্যাচটি সরাসরি দেখছিলেন। বড় ভাই কুইন সুলিভান এবং মেজো ভাই ক্যাভান সুলিভানও উন্মাদনা ভাগ করেছেন। জাতীয় দলে প্রবাসী ফুটবলারদের অংশগ্রহণের ঝাঁকুনিতে অনূর্ধ্ব-২০ স্তরেও রোনানের এই পারফরম্যান্স নতুন প্রাণশক্তি যোগালো।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই জয় বাংলাদেশকে সেমিফাইনালের পথ অনেকটা সহজ করে দিয়েছে। এখন সব নজর ২৮ মার্চ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের দিকে—জয় পেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ চারে পৌঁছে যাবে প্রতিরক্ষী চ্যাম্পিয়নরা।













