ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বক্স অফিসে সিয়ামের ‘রাক্ষস’ ঝড়: মাল্টিপ্লেক্সে শো বাড়ল দর্শক চাহিদায়

পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময়ে মুক্তি পাওয়া ডার্ক-থ্রিলার ঘরানার চলচ্চিত্র ‘রাক্ষস’ দর্শকদের মধ্যে তীব্র আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদের শক্তিশালী এবং রহস্যময় উপস্থিতি ও টানটান কাহিনীর সমন্বয়ে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ভিড় বাড়ছে। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই শুরু হওয়া ইতিবাচক আলোচনা এবং দর্শক চাহিদার কারণে শহরের মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে ছবিটির শো সংখ্যা দ্রুত বাড়ানো হয়েছে। এটি নির্মাণ ও প্রযোজনার পক্ষের জন্য বড় একটি সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজধানীর জনপ্রিয় স্টার সিনেপ্লেক্সে ঈদের দিন ‘রাক্ষস’ শুরু হয়েছিল মাত্র ১৪টি শো নিয়ে। কিন্তু দর্শকদের অভূতপূর্ব সাড়া দেখে মাত্র চার দিনের মধ্যে শো বাড়িয়ে তা ২০-এরও বেশি করা হয়েছে। ছবির প্রযোজক শাহরিন আক্তার সুমি এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে এবং যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে সিনেমাটি বড় ধরনের বাণিজ্যিক সাফল্য কুড়াবে বলে তাদের আশা।

চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন তরুণ নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়; এটি তাঁর দ্বিতীয় নির্মাণ। আগে তিনি ‘বরবাদ’ বানিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘রাক্ষস’ হয়ে উঠেছে তাঁর আগের আলোচিত সিনেমা ‘বরবাদ’-এর বিস্তৃত ইউনিভার্সের একটি অংশ, যা দর্শকদের জন্য নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

সিয়ামের বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুষ্মিতা চ্যাটার্জি। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন অভিজ্ঞ অভিনেতারা—আলী রাজ ও সোহেল মণ্ডল। ছবির আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক; একটি বিশেষ গানে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে আলাদা কৌতূহল ও উত্তেজনা জাগিয়েছে।

প্রযুক্তিগত দিকেও ছবিটি গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। বড় পর্দার ভিজ্যুয়াল মান নিশ্চিত করতে শুটিং করা হয়েছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মুম্বাইয়ের বিভিন্ন মনোরম লোকেশনগুলোতে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি আগেও শাকিব খানের ‘বরবাদ’ নির্মাণ করে ব্যবসায়িক সফলতা পেয়েছিল; চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘রাক্ষস’ দিয়েও সেই সফলতা বজায় রেখেছে প্রযোজনা সংস্থা।

সমগ্র পরিস্থিতি মিলিয়ে এবারের ঈদে ‘রাক্ষস’ তার নিজস্ব ঘরানার দর্শকদের মুগ্ধ করে রেখেছে এবং বক্স অফিসে দৃশ্যমান সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দর্শকপ্রিয়তা অব্যাহত থাকলে ছবিটি আরও অনেকদিন প্রেক্ষাগৃহে টিকে থাকতে পারবে—এমনটাই রয়েছে নির্মাণকারীদের এবং ব্যবসা বিশ্লেষকদের আশা।