ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

গণহত্যা দিবস: সারা দেশে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়াবহ রজনীকে স্মরণ করে বুধবার সারাদেশে গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পচ্ছড়া, স্মরণসভা, দোয়া-মাহফিল ও এক মিনিট নীরবতা সহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সরকারি, রাজনীতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠনসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও 이날 নানা আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সতর্ক রাখার আহ্বান জানান।

নীলফামারী: নীলফামারী সরকারি কলেজ বদ্ধভূমিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান প্রথমে পুষ্পমাল্য দেন। এরপর পুলিশ সুপার শেখ জাহেদুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সরকারি কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও স্থানীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কাপাসিয়া (গাজীপুর): উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় গণহত্যার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা হয়। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভার সভাপতিত্ব করেন নির্বাহী অফিসার তামান্না তাসনীম। সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদুল হক, থানার ওসি শাহীনুর আলম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহমেদ নান্নু, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক সামসুদ্দীন খান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা রুহুল আমিন, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার): উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা ও স্থানীয়level-এ স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু কমলা কান্ত, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন, বিএনপির স্থানীয় নেতারা ও স্বনামধন্য সমাজকর্মীরা।

কেশবপুর (যশোর): উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও নীরবতা পালন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ২৫ মার্চকে বাঙালি জাতির ইতিহাসের এক ভয়াল ও বেদনাবিধুর রাত হিসেবে উল্লেখ করে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে ও শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণে আহ্বান জানান। সভায় জেলা ও স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

ভোলা (বোরহানউদ্দিন): উপজেলা প্রশাসনের আয়োজন ঘটে বসরে আলোচনা সভা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনের সভাপতিত্বে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা, মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে শহীদদের স্মরণ করেন। সভায় এক মিনিট নীরবতা পালিত হয় এবং বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।

শ্রীপুর (গাজীপুর): উপজেলার সাতখামাইর গণকবর ও বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় ১২ শহীদকে স্মরণে। গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু সকালে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। স্মৃতিচারণে বলা হয়, ওই এলাকায় ১৯৭১ সালে দুই নারীসহ ১২ জন নিরীহ মানুষকে নির্যাতন করে হত্যা করে একটি গণকবর নির্মিত হয়; নিহতদের মধ্যে ছিল এক নববধূও। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজিব আহমেদ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির আহমেদ, প্রেসক্লাব ও স্থানীয় নেতারা। নিহত শহীদদের নামের তালিকায় রয়েছে আলী মুনসুর, আব্দুল বাতেন, আজম আলী, ইছব আলী, আব্দুস ছাত্তার, ইসমাইল হোসেন, ছনা পাগলা, আব্দুল লতিফ, আতর আলী, হানিফ মিয়া, ছালেহা বেগম ও রুকিয়া বেগম।

কালীগঞ্জ (গাজীপুর): খলাপাড়া বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরে বিশেষ মোনাজাতে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই দিনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়।

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ): স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপজেলার মিলনায়তনে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভায় স্থানীয় কর্মকর্তারা এবং মুক্তিযোদ্ধারা বক্তৃতা করেন ও গণহত্যার গভীর তাৎপর্য বিষদভাবে তুলে ধরেন।

বাসাইল (টাঙ্গাইল): উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, এক মিনিট নীরবতা ও ব্ল্যাকআউটসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি পালন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সমাজসেবা কর্মকর্তা নূরে-ই-লায়লা সঞ্চালনা করেন। বক্তারা নানাভাবে ২৫ মার্চের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের কথা স্মরণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জীবন্ত রাখার আহ্বান জানান।

মাগুরা: নোমানী ময়দান শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বিভিন্ন সামাজিক–সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায়। জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান সহ জেলা প্রশাসন ও জননীতি-সামাজিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। বক্তারা বলেন, ২৫ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর বেদনার দিন; এ দিনকে ভুলে যাওয়া দেশとして শাস্তিহীনতার কারণ হতে পারে, তাই সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ জরুরি।

রৌমারী (কুড়িগ্রাম): উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে সরকারি ও স্থানীয় নেতারা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও গণহত্যার স্মৃতি তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার ওপর জোর দেন।

দেশের নানা প্রান্তে অনুষ্ঠিত এসব অনুষ্ঠানে একটার পর একটা স্মরণ করা হয়েছে সেই কালরাত্রির অমানবিকতা এবং তা থেকে বিন্দুমাত্রও শয়নশীল না হওয়ার প্রতিশ্রুতি। বক্তারা বারবার বলছেন—মুক্তিযুদ্ধ ও তার শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাসের যথার্থ জ্ঞান অনতিবিলম্বে পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাধীনতার চেতনাকে জাগ্রত রেখে দেশগঠন কাজে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই এখন প্রধান কর্তব্য।