ঢাকা | রবিবার | ২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় হাসপাতাল ধ্বংস: আফগান ক্রিকেটাররা ভারতের সহায়তা চান

কাবুলে একটি হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জনের প্রাণহানির খবর নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর আফগান ক্রিকেটের তরুণ তারকা এএম গজনফার সোচ্চার হয়ে ভারতকে সাম্প্রতিক সংকটের সময় সরাসরি সহায়তা ও হস্তক্ষেপ করার আবেদন জানান।

১৯ বছর বয়সী গজনফার, যিনি আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলার অপেক্ষায় রয়েছেন, এই ঘটনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জ্ঞাপন করে বলেন যে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র—যেখানে অসহায় মানুষদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন চলেছিল—সেসহ ধ্বংস করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি ভারতকে আফগানসমাজের ‘‘অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও অকৃত্রিম বন্ধু’’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দিল্লির কাছে দ্রুত মানবিক ও কূটনীতিক পদক্ষেপ চেয়েছেন।

গজনফার পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলেন, আফগান ইতিহাস গৌরবোজ্জ্বল এবং যদি একইরকম নৃশংসতা আবার ঘটে তাহলে তার প্রতিক্রিয়া পাকিস্তানের জন্য ভয়ানক হতে পারে। তাঁর কথায়, সাধারণ চিকিৎসাকেন্দ্রকে লক্ষ্য করে আক্রমণ সহ্য করা যায় না।

এর আগে দেশটির ক্রিকেট সুপারস্টার রশিদ খান এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। নাভিন-উল-হাকও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন ও বর্বরতাপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তারা সহানুভূতি ও দ্রুত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসলামাবাদ বলেছে যে তারা বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেনি; তাদের দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা সন্ত্রাসী আস্তানা ও সামরিক অবকাঠামোকে খুঁটিয়ে লক্ষ্য করেছে এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যাভিমুখে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই ঘটনার দায় নিয়ে দায়সারা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পেছনে দায় কার—এটি যাচাই করা ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দাবি করেছেন। এদিকে গজনফার ও অন্য ক্রিকেটাররা বিশ্ব সম্প্রদায় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি মানবিক বিপর্যয় রোধে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে চলেছেন। পরিস্থিতি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নিখুঁত তদন্তকে তারা জরুরি মনে করছেন।