ঢাকা | শুক্রবার | ২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১লা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সৌদি হুঁশিয়ারি: ইরানের বিরুদ্ধে বড় সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ রিয়াদে আরব রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভার পর ইরানের ওপর কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যদি উপসাগরীয় অঞ্চলের বিরুদ্ধে হামলা চালায় তা আর সহ্য করা হবে না এবং প্রয়োজনে সম্মিলিতভাবে বড় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে তেহরানকে তাদের আঞ্চলিক কৌশল অবিলম্বে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে — হামলার লক্ষ্যবস্তুর উপর নির্ভুলতা আছে, যা আগে থেকেই সাজানো ও পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। যদিও এ ধরনের অভিযোগ ইরানি কূটনীতিকরা অস্বীকার করেছেন, তবু রিয়াদে সৌদি নীতি নির্ধারকরা এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে যাচাই করেছেন।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, কবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে সেটি প্রকাশ করা ‘বুদ্ধিমানের কাজ হবে না’, এবং যোগ করেন যে সৌদির ধৈর্যেরও একটি সীমা আছে — তা অসীম নয়। এছাড়া সংঘাত শান্ত হয়ে গেলেও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন একধরনের দীর্ঘপ্রক্রিয়া হবে, কারণ আস্থা বড় পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; হামলা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পারস্পরিক আস্থা পুনরুদ্ধার ‘প্রায় অসম্ভব’ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্কবার্তাও দেন তিনি।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় হামলার দাবি ওঠে। কাতারের রাস লাফান গ্যাস ফ্যাসিলিটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান গ্যাস ফ্যাসিলিটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং কাতার সরকার এই হামলার কড়া নিন্দা জানায়। আগেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এমন আক্রমণের সম্ভাব্যতা সম্পর্কে হুমকি দিয়েছিল যে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

এ তারই প্রেক্ষিতে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।

উৎস: আল জাজিরা