ঢাকা | সোমবার | ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৭শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

দুইজন কমে লড়েও হারেনি বায়ার্ন, নাটকীয় ১-১ ড্রয়ে স্বস্তি

জার্মান ফুটবল লিগে বায়ার লেভারকুজেনের বিপক্ষে নাটকীয় সব ঘটনার মধ্য দিয়েই এক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বাজারে আনল বায়ার্ন মিউনিখ। ম্যাচটা শুরুতেই তাদের জন্য কাকতালীয় ধাক্কা হয়ে আসে, এরপরও দল যেন হাল ছাড়েনি—অবশেষে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা।

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে ঘরের মাঠে থাকা লেভারকুজেনের স্প্যানিশ মিডফিল্ডার আলেইশ গার্সিয়া দলের জন্য এগিয়ে দেন। সেই গোলের পরে যদিও বলদখলে বায়ার্ন কিছুটা এগিয়ে ছিল, আক্রমণে তারা আগের ধারটুকুও ধরে রাখতে পারছিল না।

প্রথমারের্ধের ৪২ মিনিটে অতিরিক্ত নাটক যোগ হয়: সেনেগালের ফরওয়ার্ড নিকোলাস জ্যাকসনকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিপজ্জনকভাবে ফাউল করার অভিযোগে ভিডিও সহায়তায় সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। ম্যাচে বাঁকে বাঁকে উত্তেজনা থাকলেও এই মুহূর্তে পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয়ার্ধেও উত্তেজনা কমেনি। ৬১ মিনিটে হ্যারি কেইন বল জালে পাঠিয়ে বায়ার্নকে সম্ভাব্য জয়ের দিকে ঠেলে দিলেন, কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ভিডিও আমদানি করে দেখা হয় গোলের আগেই তার হাতে বল লেগেছে; ফলে সেই গোল বাতিল করে দেওয়া হয়। এরপরও বায়ার্ন লড়াই ছাড়েনি। ৬৯ মিনিটে মাইকেল ওলিসের দারুণ পাস থেকে লুইস দিয়াসের ফিনিশিং সমতা ফেরায় এবং ম্যাচ ১-১ হয়ে যায়।

কিন্তু নাটক এখানেই শেষ নয়—৮৪ মিনিটে লুইস দিয়াসকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বিতাড়িত করা হয়, ফলে শেষ দিকে বায়ার্নকে ফল পরিণত হতে হয় নয়জনের দলে। শেষ কয়েক মিনিটে লেভারকুজেন একের পর এক আক্রমণ চালালেও বায়ার্নের প্রতিরক্ষাবাজির ধার ধরে রেখে আত্মজীবন রক্ষা করতে সফল হয়।

পরিসংখ্যান বলছে, লেভারকুজেন মোট ১৮ শট নিয়েছিল এবং বায়ার্ন ১০টি—তাদের মধ্যে চারটি ছিল লক্ষ্যভেদে। তবে শেষ পর্যন্ত গোললাইন রক্ষা করে বায়ার্ন একটি মূল্যবান পয়েন্ট জিতেছে। এই ড্রয়ের ফলে লিগ টেবিলে ২৬ ম্যাচে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বায়ার্ন মিউনিখ; দ্বিতীয় স্থানে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সংগ্রহ ৫৮ পয়েন্ট।

ম্যাচটি ছিল ধৈর্য ও প্রতিরক্ষার খেলা—দুইজন কম নিয়ে লড়লেও আত্মবিশ্বাস সহকারে পয়েন্ট রক্ষা করা বায়ার্নের জন্য স্পষ্টতই স্বস্তির খবরে পরিণত হলো।