ঢাকা | শনিবার | ১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৫শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

পর্তুগিজ ক্লাসিকো কাটেনি—মরিনিয়োকে দুই ম্যাচ ও ১১ দিনের নিষেধাজ্ঞা

বেনফিকা কোচ হোসে মরিনিয়োকে আবারও শাস্তির মুখে পড়তে হলো। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল তাঁকে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং ১১ দিনের জন্য সবধরনের ফুটবল কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করেছে। এই সিদ্ধান্ত ওই ক্লাসিকো ম্যাচের সময় ঘটা অপেশাদার আচরণকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনা ঘটেছে গত রোববার পোর্তোর বিরুদ্ধে ‘পোর্তুগিজ ক্লাসিকো’ চলাকালীন। লুকিয়ে দেখা ম্যাচের ৯১তম মিনিটে ১-১ গোলের সমতায় থাকা অবস্থায় মরিনিয়ো উত্তেজনায় মাঠের দিকে বল কিক করেন। পরে তিনি দাবি করেন যে তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে গোল উদযাপনে বল ছুঁড়েছিলেন, কিন্তু সেটা সরাসরি পোর্তোর রিজার্ভ বেঞ্চে গিয়ে গিয়ে পড়ে।

বল পৌঁছে গেলে পোর্তোর সহকারী কোচ লুইস গঞ্জালেসের সাথে মরিনিয়ো বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। বিবাদের এক পর্যায়ে মরিনিয়ো প্রতিপক্ষকে নির্লজ্জভাবে তুচ্ছ বোঝাতে তাঁর হাতের একটি ইশারা করেন, আর জবাবে গঞ্জালেস তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, মরিনিয়ো তার কোচিং ক্যারিয়ারের সূচনা করেই ছিলেন পোর্তোর শিবিরে—তাই এই কণ্ঠস্বর আরও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় রেফারি মরিনিয়োকে সরাসরি লালকার্ড দেখান এবং মাঠ থেকে বাদ দেন। ম্যাচের পর ফেডারেশন দীর্ঘ পর্যালোচনার ভিত্তিতে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ১১ দিনের নির্বন্ধ আরোপ করে। একই ঘটনার কারণে পোর্তোর সহকারী কোচ লুইস গঞ্জালেসকেও এক ম্যাচ এবং আট দিনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মরিনিয়ো এই রায়কে ‘অন্যায্য এবং অনুপোযুক্ত’ বলে কটাক্ষ করেছেন। বেনফিকা ক্লাবও আনুষ্ঠানিকভাবে উপযুক্ত আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনা মরিনিয়োর জন্য নতুন নয়—সম্প্রতি ইউএফএ চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলার সময়ও লালকার্ডের কারণে তাঁকে ডাগআউটের বাইরে বসে থাকতে হয়েছিল।

বেনফিকার মরসুমের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই নিষেধাজ্ঞা বড় ধাক্কা দিতে পারে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে ক্লাবের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আছে, যেখানে মাঠে কোচের উপস্থিতি থাকবে না—এটি খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও ম্যাচ কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।

ফেডারেশনের শাস্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আপিল প্রক্রিয়া সম্ভাব্য, এবং তা কতটা দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত আসে, সেটাই এখন সরাসরি বেনফিকার লিগ দৌরকে প্রভাবিত করতে পারে। মাঠের মাঠে এবং কোর্ট-রুমে ভবিষ্যতের লড়াই—দুটোই এখন নজরবন্দি।