ঢাকা | বুধবার | ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

অ্যাতলেটিকোর কাছে বিধ্বস্ত টটেনহাম; ১৭ মিনিটেই গোলরক্ষক বদল

টটেনহাম হটস্পারের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অভিযান বড় ধাক্কা খেল—অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মাঠ থেকে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে ফেরে ইংলিশ ক্লাবটি। তরুণ গোলরক্ষক আন্তোয়ান কিনস্কির ধীরগতি এবং কয়েকটি মারাত্মক ভুলেই ম্যাচের প্রথম থেকেই সব কিছু টপকে যায় স্পার্সের।

খেলার মাত্র ছয় মিনিটে কিনস্কির একটি দুর্বল ক্লিয়ারেন্সে সুযোগ পেয়ে মার্কোস লরেন্তে অ্যাতলেটিকোকে এগিয়ে দেন। পরের টোপটায়, ১৪ মিনিটের মধ্যে আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান করায় ব্যবধান বাড়ে ২-০। এরপর মাত্র কিছুক্ষণ পরই কিনস্কির একটি অনভিপ্রেত ব্যাকপাস সরাসরি জুলিয়ান আলভারেজের পায়ে পড়ে এবং আলভারেজ সহজেই গোল করে ম্যাচকে আরো বিপজ্জনক করে তোলেন। এই ধারাবাহিক ভুলের পর আক্ষেপ কমাতে না পেরে কোচ ইগোর টিউডর ১৭ মিনিটে কিনস্কিকে বদলে মাঠে নামান অভিজ্ঞ গুগলিয়েলমো ভিকারিওকে।

গোলরক্ষক বদলেও স্পার্সকে ফেরার সুযোগ মেলেনি। ২২ মিনিটে রবিন লে নরমান্দের এক শক্তিশালী হেডে স্কোর বেড়ে ৪-০ হয়ে যায় এবং প্রথমার্ধই টটেনহামের জন্য হয়ে ওঠে এক মর্মান্তিক অধ্যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে যদি কখনো প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে থাকে, তা পেদ্রো পোরো ও ডমিনিক সোলাঙ্কের গোলেই—তারা দুইটি গোলে ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে দেন। কিন্তু জীবন হয়ে ওঠে কঠিন যখন আলভারেজ নিজের দ্বিতীয় গোল করে প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণ পেছনে ঠেলে দেন এবং ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত করে দেন: ৫-২।

রক্ষণভাগের চরম সমন্বয়হীনতা এবং শুরুর নাটকীয় ভুলগুলো মিলিয়ে এই পরাজয় টটেনহামের জন্য বিব্রতকর। গ্যালারিতে বসে এই ভগ্নাবস্থার সাক্ষী ছিলেন ক্লাবের সাবেক সফল কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো; দর্শকেরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা দিলেও মাঠে বর্তমান কোচ টিউডরের অসহায়ত্ব স্পষ্ট ছিল। টানা চার ম্যাচে পরাজয়ের ফলে টিউডরের ওপর চাপ তীব্র হওয়া শুরু হয়েছে এবং মাত্র ২৯ দিনের মাথায় তাঁর ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টিকে থাকতে টটেনহামের সামনে এখন একেবারেই সহজ পথ খোলা নেই—ফিরতি লেগে কোনো অলৌকিক কাজ না হলে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানো খুব কঠিন হবে।