মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন নতুন ও বিপজ্জনক এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনের পর জানা গেছে যে, হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচল স্থগিত করার উদ্দেশ্যে সমুদ্র তলদেশে মাইন বসানোর চেষ্টা করছে ইরান। এ সংবাদ প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সেখানকার বিপজ্জনক জলসীমায় তাদের বাহিনী সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনী দাবি করেছে ওই অভিযানে ইরানের অন্তত ১৬টি মাইন মোতায়েনকারী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। পেন্টাগনের তথ্যে বলা হয়েছে, তারা মূলত মাইন বসানোর জন্য ব্যবহৃত বিশেষ নৌযান এবং মাইন মজুত রাখার গুদামগুলো লক্ষ্য করে বিমান হামলা করে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান এই রাস্তা অবরোধের জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছে—যদি হরমুজ প্রণালিতে মাইন থাকে, সেগুলো দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে; তেহরান যদি তাদের আহ্বানে সাড়া না দেয় তবে তারা অপূরণীয় সামরিক পরিণতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই বার্তা নির্দেশ করে যে, প্রণালির নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য ওয়াশিংটন যে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
ইরানের এই অবস্থানকে আরও জোরালো করা হচ্ছে, বিশেষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আঘাতের প্রতিক্রিয়ায়। হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি—এ পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় বিশ্বব্যাপী তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দুই-তৃতীয়াংশ নয়, বরং মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হওয়ার হিসেব করা হয়—ফলে এখানকার অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে তাত্ক্ষণিকভাবে প্রভাবিত করছে। বর্তমানে ওই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি ব্যাহত হওয়ায় миров জুড়ে বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের মাইন স্থাপনের পরিকল্পনা প্রধানত মার্কিন ও ইসরায়েলি নৌসামরিক কার্যক্রমকে সীমিত করাই লক্ষ্য—তবে মার্কিন পাল্টা হামলা ও সাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করছে। কতদিন এই অনিশ্চয়তা চলবে এবং তেহরান ট্রাম্পের সতর্কবার্তায় প্রতিক্রিয়া জানাবে কি না, তা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল থাকায় এই অঞ্চলে নতুন কোনো উন্নয়ন হলে তা বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলবে—বিশেষত জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে। এখন আন্তর্জাতিক দৃষ্টিপাতে রয়েছে হরমুজ প্রণালী ও সেখানে নৌনিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ কাকে কতটুকু মেনে নেবে।














