রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কেন্দ্রীয়, উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৯ মার্চ) একটি জরুরি সভার পরে দলের সকল সদস্যের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে এই গণপদত্যাগের খবর জানানো হয়। উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা নিজস্ব দায়িত্বে এমন সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পদত্যাগপত্রগুলো ইতিমধ্যেই রাঙামাটি জেলা কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, এই ৮৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বর্ষের শুরুতে, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি, জেলা কমিটির অনুমোদন পেয়েছিল মাত্র ছয় মাসের জন্য। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের অমিলের কারণে, এই বিশাল পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নেতাদের মতে, তারা জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থান ও পরিবর্তনের প্রত্যাশায় দলটিতে যোগদান করেছিলেন। কিন্তু ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ায় দলের মূল স্বকীয়তা ও আদর্শের ক্ষতি হয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
অসিম চাকমা বলেন, দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত এবং নীতির সঙ্গে অসংলগ্নতার কারণে তাঁরা এই কঠোর অধ্যায় বেছে নিয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, দলটি স্বাধীনভাবে চলতি বছরে বিপ্লবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে, কিন্তু জোট নীতির কারণে সেই স্বপ্ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, আদর্শের প্রশ্নে আপস না করে পদত্যাগ করাকেই তারা সবচেয়ে যৌক্তিক বলে মনে করেছেন। রাঙামাটির জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা এই পদত্যাগপত্রের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, এই বিশাল গণপদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে কিছু সন্দেহ ও সংশয় দেখা দিয়েছে। দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা জানিয়েছেন, তারা নিয়ম অনুযায়ী লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন কি না, সেটা তদন্তের মধ্যে। তিনি মনে করেন, যদি মূল কারণ জোট বা জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা হয়ে থাকে, তাহলে দলটি নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল। ভোট শেষে এমন পদত্যাগ বাধ্যতামূলক নয় বলে তাঁর ধারণা। তিনি আরও যোগ করেন, সম্ভবত অন্য কোনও রাজনৈতিক চাপের কারণেও এই সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে, অসিম চাকমা স্পষ্ট করে বলেছেন, নেতাকর্মীরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এবং দলের আদর্শের পক্ষে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পার্বত্য অঞ্চলে এই বড় ধরনের পদত্যাগ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করে, যা এনসিপির আঞ্চলিক সংগঠনে বড় শূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে।












