ঢাকা | বুধবার | ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত—কুর্দি বিদ্রোহীরা

ইরান-ইরাক সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিজেদের গোপন ঘাঁটিগুলো থেকে কড়া বার্তা দিয়েছে কুর্দি সশস্ত্র কর্মীরা। মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনার মধ্যে তারা বলেছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং প্রয়োজন পড়লে সামরিক মোকাবিলায় নামবে।

তারা দাবি করেছে, বহিঃশক্তির সমর্থন থাকুক বা না থাকুক নিজেদের অধিকার আদায়ে তারা ক্ষিপ্তভাবে লড়াই চালাবে। তবে তাদের এক বিশ্বাসও রয়েছে—ইরানের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের বড় কোনো গণ-অভ্যুত্থান ঘটলে সেটি তাদের অভিযানের পথকে সহজ করবে এবং সম্মুখ যুদ্ধে তাদের জন্য সুবিধা সৃষ্টি করবে।

এই মনোভাব এবং বর্তমান অবস্থার কথা জানালেন কুর্দিস্তান ফ্রি লাইফ পার্টির (পিজেএকে) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রোকেন নেরাদা, যিনি ১৭ বছর ধরে বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডে জড়িত। সংবাদমাধ্যম এএফপির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বললেন, ‘‘যদি কুর্দি জনগণের ওপর আক্রমণ করা হয়, আমরা জীবন বাজি রেখে জবাব দেব। আমাদের ভাগ্য বদলাতে হলে আমরা কোনো বিদেশি শক্তির আশ্রয়হীনভাবে নিজের পথই বেছে নেব।’’

আকস্মিক ওই জোরালো প্রস্তুতির ডাক এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রশাসনের নীতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে মার্কিন নেতৃত্ব কিছুটা অনুপ্রেরণার ইঙ্গিত দিলেও পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের পক্ষে নেই বলে জানিয়েছেন। তবু ওই সিদ্ধান্ত কুর্দিদের মনোবল কমাতে পারেনি; পিজেএকে ও অন্যান্য গোষ্ঠীর গোপন আস্তানাগুলোতে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। বহু বাংকারে টেলিভিশনে তেহরানের আকাশে কালো ধোঁয়ার দৃশ্য দেখার সময় যোদ্ধাদের চোখে-মুখে সংঘাতের অদম্য সংকল্প দেখা গেছে।

তেহরান ইতিমধ্যেই এই কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সীমান্ত এলাকায় বিদ্রোহ দমন নাম করে ইরানি বাহিনী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে নির্ঘাত রিপোর্ট পাওয়া গেছে; বিশেষত গত কয়েক মাসে, যখন আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে, ইরাকের ভূখণ্ডে কুর্দি অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার তীব্রতা বাড়ার কথাও বলা হচ্ছে। ইরান বলেছে, এরা পশ্চিমা বা পররাষ্ট্র এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে—তবে কুর্দি নেতারা এসব অভিযোগ অগ্রাহ্য করে নিজেদের সংগ্রামকে ন্যায্য বলে দাবি করছেন।

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ইরাকে কুর্দি বিদ্রোহীদের প্রকাশ্য তৎপরতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খানিকটা কমে গিয়েছিল। তবু সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংঘাত আবারও এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় পর্যায়ে ফিরিয়ে আনছে এবং পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত অঞ্চলে নতুনভাবে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কুর্দিদের দৃঢ় সংকল্প ও তেহরানের কড়া পদক্ষেপের কারণে এ অঞ্চল যে কোনও সময় পরবর্তী উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে, এবং সেটাই স্থানীয় জনগণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।