ঢাকা | মঙ্গলবার | ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২১শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সিপিডি: বাজেটে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় জোর দেওয়ার আহ্বান

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়ের সময় দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেছে।

সোমবার নয়, মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য সুপারিশসমূহ’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট হবে নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট, ফলে এটি দেশের অর্থনীতি ধরা-বাধার এক সংবেদনশীল সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার বড় সুযোগ।

ড. ফাহমিদা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব সংগ্রহে ধীরগতি, বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, বিনিয়োগের নিম্নগতি এবং সীমিত কর্মসংস্থানের মতো চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে। এ সঙ্গে আর্থিক খাতের ঝুঁকি ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির মন্থরতাও অর্থনীতিকে দুর্বল করছে। তাছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরবর্তী বাস্তবতায়ও নানান চাপ দেখা দেবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও উদ্বেগ তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি হিসেবে কাজ করতে পারে। সেক্ষেত্রে নীতি নির্ধারকদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এজন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এসব ক্ষেত্রে লক্ষ্যভিত্তিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে তিনি জানান।

ড. ফাহমিদা আরও বলেন, বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষাকে কেন্দ্রীয় স্থান দিতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শক্তিশালী করা, ঘরোয়া এবং ক্ষুদ্র আয়ের পরিবারের আয় রক্ষার জন্য টার্গেটিং বর্ধিত করা এবং কর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। এগুলো একই সঙ্গে অর্থনীতির দ্রুত পুনরুদ্ধারেও সহায়ক হবে।

তিনি নতুন সরকারের জন্য এই বাজেটকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন—নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সূচনা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতায় কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শনের সুযোগ। তবে তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুসংগঠিত রাজস্ব কাঠামো গড়ে তোলা অত্যাবশ্যক।

সিপিডি জানিয়েছে, এবারের বাজেট ঘোষণার আগে বিভিন্ন খাতের জন্য নির্দিষ্ট রাজস্ব নীতি ও প্রস্তাবনা সংস্থাটি তুলে ধরেছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তিও দৃঢ় হবে।

সমাপ্তিতে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশ আরও স্থিতিশীল, টেকসই ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পথে অগ্রসর হতে পারবে। তাই বাজেটে তাত্ক্ষণিক সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের সমন্বয় বজায় রাখা অপরিহার্য।