ঢাকা | মঙ্গলবার | ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২১শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট: এনসিপির রাঙামাটির ৭ নেতার পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখা থেকে সাত জন শীর্ষ নেতা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। তারা শুক্রবার (৫ মার্চ) রাতে সামাজিক মাধ্যমে তাদের পদত্যাগপত্র শেয়ার করলে সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পদত্যাগের কারণ হিসেবে তারা পার্টির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে জোট গঠনকে উল্লেখ করেছেন এবং সেই সিদ্ধান্ত তাদের স্বতন্ত্র আদর্শের বিরুদ্ধে বলেই মনে করছেন।

পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন— যুগ্ম সদস্যসচিব উজ্জ্বল চাকমা, সংগঠনিক সম্পাদক দিবাকর চাকমা, মিশন চাকমা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ঊষাপ্রু মারমা, দপ্তর সম্পাদক প্রণয় বিকাশ চাকমা, সদস্য বিনয় চাকমা ও সদস্য সুলেখা চাকমা।

উজ্জ্বল চাকমা তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, তিনি অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং ‘জুলাই’র গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এনসিপিকে বহুমাত্রিক ও বহুত্ববাদী আদর্শের দল হিসেবে দেখেছিলেন। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এনসিপি যখন স্বতন্ত্র আদর্শ ত্যাগ করে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠন করে, তখন তার পক্ষে সেই আদর্শ লালন করা সম্ভব হয়নি—এ কারণে তিনি এবং অন্যরা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপি রাঙামাটি জেলা কমিটির আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা বলেন, তিনি শুনেছেন যে কয়েকজন নেতা পদত্যাগ করেছেন, তবে তার কাছে এখনও কোনো লিখিত আবেদন পৌঁছে নেই। তিনি বলেন, হঠাৎ সংগঠনে এভাবে ছুটে ছুটে পদত্যাগের কারণ সাংগঠনিকভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (১২ ফেব্রুয়ারি) এনসিপি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের হয়ে অংশগ্রহণ করে। জোট গঠনের এ সিদ্ধান্তের পর নির্বাচনের আগে থেকেই দল ছাড়তে শুরু করেন ডা. তাসনিম জারা, সামান্থা শারমিন ও আরো কয়েকজন নেত্রী।

রাঙামাটির এই পদত্যাগ এনসিপির স্থানীয় организаtional কার্যক্রম ও দলের ভেতরেকার মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়ার দিকে নতুন করে আলো ফেলেছে, যা পরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।