ঢাকা | মঙ্গলবার | ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২১শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ঈদে যানজটমুক্ত সড়ক নিশ্চিত করতে সেতু সচিবের যমুনা সেতু ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিদর্শন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ আর নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে যমুনা সেতু এলাকা ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগের সচিব।

সোমবার (৯ মার্চ) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপির নির্দেশনায় সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বিভিন্ন স্থলপর্যায়ের কাজ পর্যালোচনা করেন। এ সময় সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন সেখ, পরিচালক (পিএন্ডডি) ও যুগ্মসচিব মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে সচিব বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এই ঈদে সারাদেশের জনসাধারণের যাতায়াত যেন নিরাপদ, আরামদায়ক ও নির্বিঘ্ন হয় সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তরফ থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক তদারকির কথাও তিনি স্মরণ করান।

এলেঙ্গায় নির্মাণাধীন নতুন বাস-বে পরিদর্শন করে সচিব অনিয়ন্ত্রিতভাবে মহাসড়কে বাস থামিয়ে যানজট সৃষ্টি করা বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্ধারিত বাস-বে ব্যতীত অন্য কোথাও যানবাহন থামানো যাবে না; এতে যাত্রীদের নিরাপদ ওঠানামা এবং যান চলাচলে সহায়তা হবে।

যমুনা সেতুর টোল প্লাজার পূর্বে গোলচত্বর ও টোল আদায় কেন্দ্র পরিদর্শন করে সচিব গোলচত্বরে দৃশ্যমান রং ও সাইনবোর্ডing করে ভাগ নির্দেশ স্পষ্ট করার পরামর্শ দেন। টোল আদায় দ্রুততর করতে ডিজিটাল ও অটোমেটেড ব্যবস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয় এবং গাড়ি নির্দিষ্ট লেনে চলাচল নিশ্চিত করতে ব্যারিয়ার ও সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশনা দেয়া হয়। পাশাপাশি ওভারটেকিং না করার আহ্বান জানানো হয়।

দুর্ঘটনা বা যানবাহন বিকল হলে দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করার জন্য কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা ভারী রেকার ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখতে সতর্ক করেছেন সচিব। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যানজট সৃষ্টি রোধে সহায়তা হবে।

স্ট্যাক ইয়ার্ড পরিদর্শন করে অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহনদের ওয়েটস্কেল পার করে চলাচলের বিষয়টি কঠোরভাবে নজরে রাখার নির্দেশ দেন তিনি। স্ট্যাক ইয়ার্ডকে সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবহার করার আহ্বান জানানো হয়।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে সেতুর পট-বিয়ারিংয়ের সংস্কার ও প্রতিস্থাপন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়; সচিব দ্রুত ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এছাড়া যমুনা রেল সেতু চালু হওয়ার পর মূল সেতু থেকে রেল ট্র্যাক অপসারণের কাজেও তিনি নজর দেন এবং সেতুর স্থায়িত্ব ও যান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত টিমকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক)-২ প্রকল্পের আওতায় চলমান চার লেন সড়ক ও ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজও পরিদর্শন করা হয়। সেখানে কাজের মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্যাকেজ-৫ সড়কে বিটুমিনাস কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে; আশা করা হচ্ছে আগামী ২৫ রমজানের মধ্যে সড়কটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া যাবে।

এর আগে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ আব্দুল্লাহপুর জংশন পরিদর্শন করে সচিব ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করেন এবং রাজধানীতে প্রবেশ পথে যানজট কমাতে জংশনটির সংস্কার ও আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

পরিদর্শন শেষে সচিব বলেন, ‘যমুনা সেতু ও সাসেক-২ প্রকল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জনগণের আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা আনতে প্রতিটি প্রকল্পের কাজকে শতভাগ মান অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোর কারণে যেন এবারের ঈদে কোনো জনভোগান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজর রাখা হবে।’