ঢাকা | রবিবার | ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ট্রাম্পের দাবি: ‘‘খুব শিগগিরই’’ কিউবার শাসনপতন হবে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, খুব শিগগিরই কিউবার বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটবে। শুক্রবার সকালে সিএনএন-এর উপস্থাপক ডানা ব্যাশকে একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই ভবিষ্যদ্বাণী করেন এবং বলেছেন, ওই দ্বীপরাষ্ট্র এখন এক তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আর একবার তাঁর প্রশাসনের সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেন এবং বললেন, কিউবা এখন এমন এক পরিস্থিতিতে পৌঁছে গেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য কার্যত মরিয়া। তিনি বলেন, ‘‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, তাই আমি মার্কোকে সেখানকার দায়িত্ব দেব। তারপর দেখব শেষ পর্যন্ত কী ঘটে।’’ এখানে তিনি তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মার্কো রুবিওকে কিউবা নিয়ে বিশেষ দায়িত্ব দিতেই পারেন—রুবিও নিজে কিউবান বংশোদ্ভূত হওয়ায় বিষয়টি তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।

তবে ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে একবার আরও বলেছিলেন যে, বর্তমানে তাঁর প্রশাসনের প্রধান ফোকাস ইরান। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া অপর এক বক্তব্যেও তিনি কিউবা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান বংশোদ্ভূত নাগরিকদের নিজের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়াটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি রুবিওর প্রশংসা করে জানান যে, রুবিও ইরানের ইস্যু শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছেন—তার পরই প্রশাসন পূর্ণ মনোযোগ কিউবার রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে দিতে প্রস্তুত হবে বলে তিনি বোঝান।

ট্রাম্প তাঁর কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিও স্পষ্ট করেন: একই সময়ে একাধিক সামরিক ফ্রন্টে ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত নয়। এর ফলে তাড়াহুড়ো হলে একাধিক ক্ষেত্রে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে—আপাতত মুহূর্তটি ধাপে ধাপে এগোনোর। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে তার প্রশাসন তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ধীরগতিতে কাজ করবে, বলেন তিনি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো কিউবার ক্ষমতাসীন সরকারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বা ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা মিটলেই ওয়াশিংটন কিউবা-নীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন।