ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে তিন দশক পর বড় পরিবর্তন এসেছে। দেশটির ক্ষমতাধর সংস্থা এক বিশেষ অধিবেশনে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, এমনটাই সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করে। রিপোর্টগুলো বলছে, ‘Assembly of Experts’ নামে পরিচিত এক্সপার্টদের পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)-এর প্রত্যক্ষ সমর্থন ও চাপের ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়াটি দ্রুত অগ্রসর হয়।
সূত্রে বলা হয়েছে, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সেদিনকার শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন—এই খবর সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, খামেনির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে তাঁর জন্মভূমি এবং শিয়া মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে সমাহিত করা হবে। তবে দাফনের সঠিক তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি; মাশহাদে শোকাহত জনতার ভিড়ে প্রস্তুতি নেয়ার দৃশ্য বাড়ছে বলে জানা গেছে।
৮৬ বছর বয়সি আলি খামেনি প্রায় ৩৬ বছর ধরে দেশ পরিচালনায় ছিলেন; তাঁর প্রস্থানকে অনেকেই ইরানের রাজনৈতিক জীবনে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।
মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরান একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। নতুন নেতৃত্ব কিভাবে এই সংকট মোকাবিলা করবেন, দেশের সামরিক ও কূটনীতিক নীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে—এসব নিয়েই এখন অঞ্চল ও বিশ^্বজুড়ে নজর।
আগামিতে কিভাবে পরিস্থিতি গড়াবে তা নির্ভর করবে নতুন শাসকের অধিষ্ঠান কতটা স্থিতিশীল হয় এবং রাজনৈতিক–সামরিক শক্তিগুলোর প্রতিক্রিয়া কিরূপ হবে। ফলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া ও সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতের রূপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।













