রপ্তানিমুখী শিল্পখাতে শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি পরিশোধে সৃষ্টি হওয়া সমস্যাগুলো মোকাবেলায় বিশেষ ঋণ সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সম্বলিত একটি সার্কুলার মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, সচল এবং রপ্তানিপরক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের বেতন ও ভাতা পরিশোধের জন্য ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের অনুকূলে প্রয়োজনীয় ঋণ মঞ্জুর করতে পারবে। সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখা এবং রপ্তানির লেনদেন ও সরবরাহশৃঙ্খলা অবিচ্ছিন্ন রাখতে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান তার শ্রমিক ও কর্মচারীদের সর্বোচ্চ তিন মাসের সমপরিমাণ পারিশ্রমিক ঋণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে। এই ঋণে বাজারভিত্তিক সুদ প্রযোজ্য থাকবে এবং ঋণ পরিশোধের জন্য তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট এক বছর সময় দেয়া হবে। ব্যতিক্রমত ওই অর্থ সরাসরি মালিকপক্ষে প্রদান করা যাবে না; ব্যাংকগুলো সরাসরি সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যমে প্রাপ্তিতে পাঠাবে।
সার্কুলারে শিল্পগুলোর সাম্প্রতিক আর্থিক সংকট ও কর্মচারী অসন্তোষের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ক্রয়াদেশ হ্রাস এবং তহবিল ঘাটতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বেতন পরিশোধে দুরূহতায় পড়ছে। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে কর্মী-উদ্দীপনা বজায় রাখা এবং বিক্ষোভ প্রশমনের লক্ষ্য মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
ঋণের যোগ্যতার শর্তেও স্পষ্টতা আনা হয়েছে—যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের মোট উৎপাদনের অন্তত ৮০ শতাংশ বিদেশে রপ্তানি করে এবং বিগত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত নিয়মিত মজুরি পরিশোধ করেছে, শুধুমাত্র সেসব প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন যেমন বিজিএমইএ বা বিকেএমইএ-এর প্রত্যয়নপত্র থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত নিয়মিত সুদ ব্যতীত অন্য কোনো অতিরিক্ত ফি বা চার্জ আরোপ করা যাবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগটি তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী ও রপ্তানিকারকদের সম্প্রতি গভর্নরের সঙ্গে করা অনুরোধের পরে নেয়া হয়েছে। নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে উৎপাদন সচল থাকবে, শ্রমিকদের আয় নিশ্চিত হবে এবং রপ্তানি চেইন ধরে রাখা যাবে।














