ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন বাংলাদেশি নিহত, কুয়েতে ড্রোন হামায় ৪ প্রবাসী আহত

ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন; একই সংঘর্ষে কুয়েতে ড্রোন হামায় চার প্রবাসী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিহতের ঘটনা নিশ্চিত করেছে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন সূত্রে নিহতের নাম সালেহ আহমদ বলে জানানো হয়েছে।

নিহত সালেহ আহমদ মাইনতে ঘোষিত কাজে যুক্ত ছিলেন—সূত্র বলছে তিনি ইউএইয়ের আজমান প্রভিন্সে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করতেন। মরদেহ পাঠানোর ও পরিবারের তত্ত্বাবধানে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ইফতারের পর সালেহ কাজের উদ্দেশ্যে বের হন। কিছুক্ষণের মধ্যে আকাশে উজ্জ্বল কোন কিছুর ধোঁয়া ও একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ খোঁজ লাগে। মুহূর্তে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে এবং সালেহ গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকেন। তার দেহে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশ দ্রুত পৌঁছে ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণ করেন এবং তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। রবিবার সকাল পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।

নিহত সালেহ দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে ছিলেন। দেশে তিনি মা, স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন তিনি বলে পরিবারজনে জানান। তার চাচাতো ভাই মাহবুব আলম চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, সন্ধ্যার সময় তার ভাই নিহত হয়েছেন; সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত নয় এবং মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা চান।

অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট যুদ্ধবিরোধী পরিস্থিতির প্রভাব কুয়েতেও পড়েছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় ড্রোন হামলায় চারজন বাংলাদেশি আহত হন। তারা বর্তমানে কুয়েতের ফারওয়ানিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন হাসপাতাল পরিদর্শন করে আহত প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসা ও সার্বিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসও এই ঘটনার তথ্য দিয়েছে এবং প্রবাসীদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক সাহায্য ও সমন্বয় চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ঘটনার পশ্চাৎপট এবং আরও তথ্য পাওয়া পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে আনুষ্ঠানিক বিবরণ জানানো হবে। প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও আহতদের দ্রুত সুষ্ঠু চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও কেয়ারিং ব্যবস্থাপনা তৎপর রয়েছ।