ঢাকা | শনিবার | ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১১ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

পাকিস্তান–আফগানিস্তানে পূর্ণযুদ্ধের আশঙ্কা, চীনের মধ্যস্থতার আহ্বান

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্তে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে ভবিষ্যতে পুরো যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি ঠেকাতে চীন、中ন মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়। বেইজিং জানিয়েছে, তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছে এবং উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাবে। খবর আলজাজিরার।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তারা ইসলামাবাদ ও কাবুলের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপ ও আলোচনা তাদের অগ্রাধিকার। চীন সবসময় বিষয়গুলো সমাধানে এ ধরনের পদ্ধতিকে সমর্থন করে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পেছনের ইতিহাস আবারো নতুন করে উঠে এসেছে। গত বছরের অক্টোবরে, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দোহায় আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও, এর আগে এক সপ্তাহের অধিক সময় ধরে সীমান্তে গুলি বিনিময়, প্রাণহানি এবং পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছিল। পাকিস্তানের দাবি ছিল, কাবুল সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দমন করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অন্যদিকে, আফগানিস্তান অভিযোগ করে, পাকিস্তান আইএসআইএল-ঘনিষ্ঠ জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক লড়াইয়ে দু পক্ষের হতাহতের সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার মতে, ১৩৩ তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছে। তবে তালেবান সরকার জানিয়েছে, তাদের আটজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছে। এর বিপরীতে পাকিস্তানের দাবি, তাদের ৫৫ সেনা নিহত এবং ১৯টি সামরিক পোস্ট দখল করা হয়েছে। পাকিস্তান আড়ায় তাদের দুই নিরাপত্তা সদস্যের নিহতের খবরও দিয়েছে।

অন্যদিকে, আফগান তালেবান সরকার বলছে, তারা ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযানে নামে যা প্রায় চার ঘণ্টা চলেছিল। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লক্ষ্য সফলভাবে অর্জনের পর মধ্যরাতে অভিযান শেষ হয়েছে।

পাকিস্তান দাবি করছে, কিছু আত্মঘাতী হামলা ও নিরাপত্তা চৌকিতে আক্রমণের জেরে তারা আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছে, বিশেষ করে কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়াসহ এলাকা। তবে, আফগানিস্তান বলছে, এসব হামলায় অসংখ্য বেসামরিক আহত এবং নিহত হয়েছে এবং তারা পাল্টা জবাব দিয়েছে।

সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ তোরখাম ক্রসিংও গোলাগুলি ও গোলাবর্ষণের শিকার হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

সামরিক সক্ষমতা ব্যবধানে দুই দেশের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তানের সেনা বিভাগে প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার সেনা রয়েছেন, তাদের রয়েছে শত শত যুদ্ধবিমান, হাজারো সাঁজোয়া যান এবং পারমাণবিক অস্ত্র। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের সামরিক শক্তি সীমিত, অধিকাংশ সরঞ্জাম পুরনো।

আন্তর্জাতিক মহলেও এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কূটনীতি চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ইরান ও রাশিয়াও দ্রুত সীমান্তে হামলা বন্ধ করে সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ সমাধানের জন্য তাগিদ দিয়েছেন।