ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আজকের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক অনবদ্য ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১০৭ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তারা এই আসরে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় করার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এর আগে ওমানকে ১০৫ রানে হারিয়ে এই রেকর্ডের মালিক ছিল শ্রীলঙ্কা। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৪ রানের পাহাড়সম স্কোর তুলেছে ক্যারিবীয়রা। এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ এবং মোটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
ম্যাচে প্রথমে টস জিতে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা তাকে ব্যাটিংয়ে পাঠান। ইনিংসের শুরুতে ব্রেন্ডন কিং ও সাই হোপ দ্রুত ফিরে গেলে, শিমরন হেটমায়ার মূল চিত্র বদলে দেন। চতুর্থ ওভারে অল্প রানে জীবন পেয়ে তিনি চড়াও হন বোলারদের ওপর। মাত্র ৩৪ বলে ৮৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, সাতটি চার ও সাতটি ছক্কা হাঁকিয়ে। তার পাশে অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল ৩৫ বলের ম্যাচে ৫৯ রান করে দলের পুঁজি আরও বাড়ান। হেটমায়ার ও পাওয়েলের বাঁধাধরা ১২২ রানের জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৫৪ রানের বড় স্কোর গড়তে সহায়তা করে। শেষদিকে শেরফাইন রাদারফোর্ড ও রোমারিও শেফার্ডের চটপটে ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর পৌঁছে যায় এই রেকর্ড সংখ্যায়।
জবাবে, ২৫৫ রানের এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ক্যারিবীয় বোলারদের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। পাওয়ার প্লে-তেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারানোর পর তারা কয়েকটি প্রতিরোধের চেষ্টা করে, তবে সেটাও ব্যর্থ হয়। শেষ দিকে ব্র্যাড ইভান্স ২১ বলে ৪৩ রান করেন, পাঁচটি বিশাল ছক্কা হাঁকান, তবে অন্য ব্যাটাররা ধারাবাহিক ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস ১৪৭ রানেই থেমে যায়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন স্পিনার গুদাকেশ মোতি, যিনি ২৮ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন। তার পাশাপাশি আকেল হোসেন ৩টি উইকেট লাভ করেন। এই জয়ে, তাদের নেট রানরেটও ব্যাপক উন্নতি হয়েছে, যা সুপার আটের সেমিফাইনালের দিক থেকে অনেক সুবিধাজনক স্থান করে দিয়েছে। অপরদিকে, এই বিশাল ব্যবধানে হেরে জিম্বাবুয়েকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই কঠিন হয়ে পড়ল।














