টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের চরের ভিটা গ্রামে রাতের আঁধারে কয়েকটি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্যাকেটজাত করার সময় গ্রামবাসী চার কসাইকে আটক করে গণপিটুনির পরে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। এ ঘটনায় বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ প্যাকেটজাত মাংস ও চারটি জীবিত ঘোড়া, যেগুলো বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে।
ধোপাকান্দি ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি ও পঞ্চাশ গ্রামের বাসিন্দা ফারুখ হোসেন জানান, গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে হাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে জামালপুর সদর উপজেলার তুলসিপুর হাটসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘোড়া কিনে আনত। ঘোড়া বেচাকেনার আড়ালে এসব ঘোড়া জবাই করে পাইকারি দামে ঢাকার গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন মার্কেটে পাঠানো হতো।
তিনি জানান, গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর ট্রাকে করে ১২টি ঘোড়া বাড়িতে আনা হয়। এরপর মঙ্গলবার ভোরের দিকে বাড়ির নির্জন গোশালায় আটটি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্যাকেটজাত করা শুরু করে। জবাই করা আটটির মধ্যে দুটির পেটবাচ্ছা ছিল। প্রস্তুতি চলাকালীন গ্রামবাসী টের পেয়ে হাফিজুরের বাড়ি ঘেরাও করলে পালের গোদা হাফিজুরসহ আট দুর্বৃত্ত পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীরা নিজ হাতে ব্যতীত গণপিটুনি চালায়; পরে চারজনকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। আটককসাইদের নাম-পরিচয় হল: ঢাকার আশুলিয়ার তৈয়বপুর গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে আমিনুর, জামগড়ার জাহিদ হোসেনের ছেলে সুমন, সাভারের আবু তাহেরের ছেলে ফরহাদ এবং রংপুরের কাউনিয়ার জাহিদ হোসেনের ছেলে সুমন।
গোপালপুর থানা পুলিশের এসআই আব্বাস উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। জবাই করা মাংসটি গ্রামবাসীর হাওয়ায় রাখা ছিল এবং আটক চারটি জীবিত ঘোড়া থানায় নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার প্রস্তুতি চলছে।














