পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের চোখের চিকিৎসার দ্বিতীয় ধাপ মঙ্গলবার ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ৭৪ বছর বয়সী তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই ফলো-আপ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ঔষধ প্রয়োগের আগে ও পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল এবং দৃষ্টিশক্তিতে চোখে পড়ার মতো উন্নতি দেখা গেছে।
হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. ইমরান সিকান্দার এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে বলেন, ইমরান খানকে উন্নত চিকিৎসার অংশ হিসেবে ‘অ্যান্টি-ভিইজিএফ ইনট্রাভিট্রিয়াল’ ইনজেকশনের দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়েছে। এর আগের ধাপের চিকিৎসা একই হাসপাতালে গত ২৪ ও ২৫ জানুয়ারির মধ্যরাতে সম্পন্ন হয়েছিল। প্রথম ডোজের পর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং দৃষ্টিশক্তিতে উন্নতি দেখা যাওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এক মাস পর দ্বিতীয় ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছে।
আল-শিফা আই ট্রাস্টের কনসালট্যান্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ আরিফ ও কনসালট্যান্ট ভিট্রিও-রেটিনাল সার্জন ডা. নাদিম কুরেশি অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে এই সংবেদনশীল পদ্ধতিটি সম্পন্ন করেন। অপারেশনের আগে ইমরান খানকে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে।
এক কনসালট্যান্ট কার্ডিওলজিস্ট তাঁর ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি করায় ফলাফল সন্তোষজনক ও স্বাভাবিক দেখা গেছে। একজন কনসালট্যান্ট ফিজিশিয়ানও সার্বিকভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করেন। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইমরান খানের লিখিত সম্মতি নেওয়ার পরই ইনজেকশন দেওয়া হয় এবং অপারেশন থিয়েটারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সব প্রটোকল ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা পালিত হয়েছে।
সফল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা তার সাময়িক শারীরিক অবস্থাকে সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ফলো-আপ পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।









