গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল করলে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন আলোচনা-তত্ত্বের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার প্রভাবে মার্কিন ডলারের মূল্য কিছুটা কমে যাওয়ার পর সোমবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৫,১৬৩.৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে এপ্রিলে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২ শতাংশ বাড়ে এবং ৫,১৮৪.৯০ ডলারে উঠেছে।
বিশ্লেষকমণ্ডলীর মতে, আদালতের সিদ্ধান্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতাকে সীমিত করলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা একেবারে কাটেনি। ডলারের দুর্বলতা এবং ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনার কথাবার্তা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের দিকে আগ্রহ বাড়িয়েছে। সিএমই’র ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী বাজারে ধারণা রয়েছে যে চলতি বছরে ফেডারেল রিজার্ভ তিনবার সুদের হার কমাতে পারে—এই প্রত্যাশাও মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
চীনের চন্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে আন্তর্জাতিক লেনদেনে কিছুটা প্রশমন থাকলেও বাজারে অস্থিরতা বজায় ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সামান্য প্রশমিত হলেও নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা কমেনি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আসা ছাড়ের ইঙ্গিতও কিছু চাপ ঘুচিয়েছিল, তবু তা দাম বাড়ার প্রবণতা থামাতে পারেনি।
স্বর্ণ ছাড়াও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বাড়েছে। স্পট রুপার দাম ৩.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৭.১০ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ১.২ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই আন্তর্জাতিক প্রবণতা স্থানীয় বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশের স্বর্ণ ও রুপার দাম পুনরায় সমন্বয় করা হতে পারে।
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি বাজুস দেশে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২,৫৮,৮২৪ টাকায় এবং প্রতি ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৬,৭০৭ টাকায়।
বিশ্ববাজারে বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে নতুন মূল্যস্তর স্পর্শের সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারের অস্থিরতা ও নীতিগত পরিবর্তনগুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।














