ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৭ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

নচিকেতা চক্রবর্তীর জন্য বঙ্গবিভূষণ সম্মাননা

পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক, শিল্প ও সংগীত জগতে বিশেষ অবদানের জন্য কেন্দ্র করে একটি গর্বের দিন। শনিবার এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিভিন্ন গুণী ব্যক্তিত্বদের হাতে তুলে দিলো সর্বোচ্চ সম্মান সম্মাননা — বঙ্গবিভূষণ ও বঙ্গভূষণ। এই অনুষ্ঠানটি ছিল সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য এক বড় আড়ম্বরপূর্ণ মুহূর্ত, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি হিসেবে এবং বিজেপির সাংসদ অনন্ত মহারাজ ছিলেন বিশেষ অতিথি। এই বছর সংগীতের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ‘বঙ্গবিভূষণ-২০২৬’ সম্মাননা পান খ্যাতনামা গীতিকার ও গায়ক নচিকেতা চক্রবর্তী। এর পাশাপাশি আরও সম্মানিত হন সংগীতশিল্পী শিবাজী চট্টোপাধ্যায় ও শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন প্রজন্মের আইকন হিসেবে এঁরা সহ লোপামুদ্রা মিত্র, বাবুল সুপ্রিয়, ইমন চক্রবর্তী ও কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীরাও এই সম্বর্ধনাপ্রাপ্ত হন। চিত্রকলার ক্ষেত্রে অবদান রাখায় শিল্পী গণেশচন্দ্র হালুইকেও এই সম্মান দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে একসঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতি ব্যক্তিত্বদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। সংগীতের জন্য বিশেষ অর্জনের জন্য সম্মানিত হন জনপ্রিয় শিল্পীরা মনোময় ভট্টাচার্য, রাঘব চট্টোপাধ্যায়, রূপঙ্কর বাগচি, অদিতি মুন্সি, কার্তিক দাস বাউল ও নাজমুল হক। লোক সংস্কৃতি ও সমাজসেবা ক্ষেত্রে অবদান রাখায় সম্মাননা পান কলেন্দ্রনাথ মান্ডি, শ্যামচাঁদ বাগদি, নন্দলাল বাউড়ি, মৃণাল কান্তি বিশ্বাস ও চন্দন লোমজেল। শিল্প ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানকারীদের মধ্যে থাকেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অভিনেত্রী আমলা বিবেক কুমার এবং প্রয়াত সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার। এছাড়া টেলিভিশন ও বিনোদন জগতে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করায় স্টার জলসা ও জি বাংলা চ্যানেলকেও দেওয়া হয় সম্মাননা। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্ত করেন যে, এই সম্মাননা কেবল ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, বরং বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বে তুলে ধরার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। সংগীতাঙ্গনের তারকাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর, যেখানে নচিকেতা চক্রবর্তীর মতো শিল্পীর হাতে সম্মান পাওয়ায় তাদের অনুরাগী ও ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এই আয়োজনটি বাংলার গুণীজনদের কাজের স্বীকৃতি আর নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।