ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

আন্তর্জাতিক বাজারে তেল স্থিতিশীল, জেনেভা আলোচনার ফলাফলের দিকে নজর

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এখন স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বাজার অংশগ্রহণকারীরা দুটি সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের দিকে গভীর নজর রাখছেন—জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা এবং ইউক্রেন-রাশিয়ার সম্ভাব্য শান্তি বৈঠক—যা ভবিষ্যতে সরবরাহ ও দামের গতিপ্রকৃতিকে মাত্রাতিরিক্ত প্রভাবিত করতে পারে।

রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আজ ব্যারেলপ্রতি ২৩ সেন্ট বা ০.৩৪% কমে ৬৮.৪২ ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন বাজারে ডব্লিউটিআই ১.০৮% বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৩.৫৭ ডলারে পৌঁছেছে।

বাজারের এই মিশ্র চিত্রের পেছনে কয়েকটি উপাদান কাজ করছে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে ‘প্রেসিডেন্টস ডে’র ছুটির কারণে মার্কিন বাজারে আনুষ্ঠানিক দর নির্ধারণে বিরতি ছিল, ফলে মঙ্গলবারের দর আগের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যের চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি চীন, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরে চন্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে এশিয়ার লেনদেনের পরিমাণ সাময়িকভাবে কমে যায়, যা বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা সীমিত করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে সরবরাহ-চাহিদার প্রচলিত বিষয়গুলোর চেয়েও কূটনৈতিক সংকেতগুলো দাম নির্ধারণে বেশি প্রভাব ফেলছে। নয়াদিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এসএস ওয়েলথস্ট্রিট’-এর প্রতিষ্ঠাতা সুগন্ধা সচদেবা বলেন, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি থাকায় তেলদাম এখন নির্দিষ্ট উচ্চতায় আটকে আছে এবং আলোচনার টেবিলে অচলাবস্থা বা নেতিবাচক সংকেত এলে দাম দ্রুত ওঠানামার শিকার হতে পারে।

যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হয়, তা হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে—উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ থেকে পরিবহন করা হয়।另一方面, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে কোনো রাজনৈতিক সমাধান হলে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সঙ্গে রুশ তেল আবারও বাজারে প্রবেশ করতে পারে, যা সরবরাহ বাড়িয়ে দামের ওপর নিচের চাপ সৃষ্টি করবে।

জেনেভায় ওই পরোক্ষ সংলাপটি ওমানের মধ্যস্থতায় গোপনীয়ভাবে শুরু হয়েছে। সংবাদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ অংশ নিচ্ছেন, ইরান পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আলোচনার শুরুতেই ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে যে ওয়াশিংটনকে ‘‘অবাস্তব’’ দাবি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সময়ে ইরানের কিছু সামরিক মহড়া হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি করেছে, তবে গোলার্ধীয় আরব দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষেই জোর দিচ্ছে।

সংক্ষেপে, বিশ্ব তেলবাজার এখন মূলত কূটনৈতিক ঘটনার অপেক্ষায়—জেনেভা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া আলোচনার যেকোনো ফলই সামনের দিনে দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিনিয়োগকারীরা এখন প্রতিটি সংকেতকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।