বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ফলের চাহিদা আন্তর্জাতিক বাজারে দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর ফলে দেশের রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পর্যায়ক্রমে বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ফল রপ্তানি করে মাত্র ০.৫৮ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল। কিন্তু, শুধুমাত্র তিন বছরের মধ্যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই আয় দাঁড়িয়েছে ৬৭.৫১ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, তিন বছরে ফল রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় প্রায় ১১৬ গুণ বেড়ে গেছে, যা বাংলাদেশের কৃষি রপ্তানির জন্য খুবই উৎসাহজনক পরিবর্তন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের উপপরিচালক (রপ্তানি) মফিদুল ইসলাম বলেন, ‘কাঁঠাল, আনারসসহ বিভিন্ন ফলের চাহিদা অনেক দেশ থেকেই হচ্ছে। বাংলাদেশের উৎপাদিত ফলের জন্য বিদেশের বাজারে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বিবিধ দেশপ্রেমের আগ্রহ।’
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর নীতি ও পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক আবু মোখলেস আলমগীর হোসাইন বলেন, ‘আমাদের কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য প্রয়োজন ডেডিকেটেড যাত্রীবাহী ও বিশেষকর্মী বিমান পরিষেবা। বর্তমানে অনেক কৃষিপণ্য, বিশেষ করে পচনশীল শাক-সবজি, পণ্য পরিবহনে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। পাশাপাশি, উন্নত দেশে মানানসই স্যানিটাইজেশন ও গুণগত মান বজায় রাখা জরুরি, যাতে কৃষিপণ্য আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হয়। এর জন্য রপ্তানিকারকদের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।’
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, একদিকে গত দুই বছর রপ্তানি আয় কমলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই চিত্র পাল্টেছে। এই অর্থবছরে কৃষিপণ্যের রপ্তানি আয় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে। এর আগের অর্থবছরে তা যথাক্রমে ছিল ১.০২ ও ১.১ বিলিয়ন ডলার। পরে কমে গিয়ে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছিল যথাক্রমে ৮২৭ ও ৯৬৪ মিলিয়ন ডলার। আর সর্বশেষ অর্থবছরে এই রপ্তানি আয় বেড়ে হয়েছে ৯৮৮.৬২ মিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, চা, সবজি, তামাক, মসলা, ড্রাই ফুড, তেল বীজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য থেকে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে চা থেকে ৪.১ মিলিয়ন ডলার, সবজি থেকে ৮১.১২ মিলিয়ন ডলার, তামাকজাত পণ্য ২৫১.৯৩ মিলিয়ন ডলার, মসলা ৫৬.৩১ মিলিয়ন ডলার, ড্রাই ফুড ১৮৬.৬০ মিলিয়ন ডলার ও তেল বীজ থেকে ২৪.০৬ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। পান পাতার চাহিদাও বহির্বিশ্বে বাড়ছে, যেখানে ২০২০-২১ সালে রপ্তানি হয়েছিল ৮.০৯ মিলিয়ন ডলার, বর্তমানে এটি বেড়ে দাড়িয়েছে ২১.৪৫ মিলিয়ন ডলারে। এ ছাড়াও, উদ্ভিদ চর্বি ও তেল, চিনি, পানীয়, খৈল ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি আয় বেড়েছে।
বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি বর্তমানে ১৩০টির বেশি দেশে পৌঁছায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় ভারতের বাজারে, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়েছে ২১১.৪৭ মিলিয়ন ডলারে। আলাদাভাবে সৌদি আরবে এই অর্থবছরে রপ্তানি হয় ১১৪.০৩ মিলিয়ন ডলার।
এছাড়া, আরব আমিরাত, বেলজিয়াম, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে ওমান, ফিলিপাইন, কাতার, চায়না ও কানাডার বাজারেও রপ্তানি বেড়ে চলেছে। এসব দেশের বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য গ্রহণযোগ্যতা যেমন বাড়ছে, তেমনি দেশের অর্থনীতির দিকে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।














