ঢাকা | বুধবার | ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

যমুনা সেতু ও সাসেক-২ প্রকল্পের কাজ সময়মত শেষের নির্দেশ দিয়েছেন সেতু সচিব

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ সম্প্রতি যমুনা সেতু এবং উত্তরবঙ্গের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনের উন্নয়নের জন্য শুরু হওয়া সাসেক-২ প্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ বৃহস্পতিবার তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজের অবস্থান এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি যমুনা সেতুর এলাকা, সেতুর পশ্চিম গাইড বাঁধে নদীশাসন কার্যক্রমসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কাজের দেখাশোনা করেন। এই পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক এবং সাইট অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সচিব মহোদয় যমুনা সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম পাশে চলমান নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং সেতুর স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং সিস্টেম প্রত্যক্ষ করেন। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি নির্দেশনা দেন। বিশেষ করে টোল প্লাজায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর জন্য আধুনিক অটোমেটেড টোল কালেকশন সিস্টেম বা ইটিসি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার নির্দেশনা দেন।

এরপর তিনি টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বাস্তবায়নাধীন সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্পের অগ্রগতি দেখা এবং সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলি পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনকালে তিনি মন্তব্য করেন যে, সাসেক-২ প্রকল্পটি শুধু একটি সড়ক নয়, বরং এটি পুরো উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। দেশের উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সহজ ও বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপনে এই প্রকল্পের গুরুত্ব অনেক। তিনি জনদুরুত্ত কমানোর জন্য এবং যানবাহনের চলাচল সহজ করার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার আহ্বানও জানান।

প্রকল্পের এলাকা পরিদর্শনের শেষে সচিব প্রকৌশলী ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশ কিছু কড়া নির্দেশনা দেন। তিনি কাজের মানের উন্নয়ন, সময়মত কাজ শেষ করার প্রয়োজনীয়তা জরুরী মনে করে বলেন যেন দেশের উন্নয়ন ও সেবার উন্নতি মানুষজনের দোরগোড়ায় পৌঁছে। এছাড়া পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। নির্মাণ এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যারিয়ার, সংকেত ব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানোর জন্য নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে মহাসড়কে যানজট বা দুর্ঘটনা এড়াতে ডাইভারশন ও রোড সাইন স্থাপন, ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ওপরেও গুরুত্ব দেন।