বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, দেশের সাধারণ জনগণের চাহিদা এবং ইচ্ছে খুবই সীমিত। তবে কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজিকে এক ধরনের গৌণ সিস্টেম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছে। তারা কৃষকের পণ্য থেকে শুরু করে ব্যावসায়ীক মিল-ফ্যাক্টরির উপর নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে এই চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলস্বরূপ, দেশের জীবনে বরকত এবং স্বাভাবিক জীবনের আনন্দ ক্ষীণ হয়ে গেছে বলে তিনি গভীর দুঃখের সঙ্গেই মন্তব্য করেন। শুক্রবার সকালে গাজীপুরের কালীগঞ্জে আর আর এন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘যুব সমাবেশ ২০২৫’-এ প্রধান বক্তার বক্তৃতায় তিনি এসব কথাবার্তা বলেন।
সিবগাতুল্লাহ সিবগা আরও বলেন, ‘অন্যের সম্পদ ও অধিকার ভক্ষণ করা আগুন খাওয়া থেকে কম ভয়ঙ্কর নয়। স্বাধীনতার পর বারবার ভোট দিতে গিয়েও আমরা ভাবতাম পরিবর্তন আসবে। কিন্তু যারা নিজেদের দলের দুর্নীতি রোখার সক্ষমতা রাখে না, তারা জনগণের পক্ষে দাঁড়ানোর যোগ্যতা রাখে না। পরিবর্তনের জন্য এখন আমাদের ভোট দিতে হবে যোগ্য, সৎ ও আদর্শ নেতা—হজরত ওমরের মতো ব্যক্তিত্বকে। ইনশা আল্লাহ।’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. আফতাব উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি মো. তাজুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। অনুষ্ঠানে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগর নায়েবে আমীর মো. খায়রুল হাসান কালীগঞ্জের উন্নয়ন বিষয়ক বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে সেক্টর ভিত্তিক উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের সংবদ্ধ করে স্থানীয় উন্নয়ন আরও ত্বরিত করা হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর আমীর অধ্যাপক মুহাম্মদ জামাল উদ্দীন, গাজীপুর জেলা আমীর ও গাজীপুর-৩ আসনের প্রার্থী ড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, গবেষক আলী আহমদ মাবরুর (শহীদ আলী আহসান মুজাহিদের পুত্র), গাজীপুর-৪ আসনের প্রার্থী মো. সালাহ উদ্দিন আইউবী, ও গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শামসুল হক ভূঁইয়া প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল কালীগঞ্জ উপজেলার প্রধান সড়কগুলোতে প্রদক্ষিণ করে থানা গেটের সামনে এসে শেষ হয়।














