ঢাকা | শনিবার | ৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

লালনের গানের মানবতার বাণী আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, লালনের গান শুধু সুরের একটি রचना নয়, এটি অত্যন্ত উচ্চমানের সংগীত যা গভীর দার্শনিক, রাজনৈতিক এবং মানবিক মূল্যবোধের ভাষা। তার গানে যে মানবতার বার্তা ফুটে ওঠে, তা আজকের বিশ্বেও শক্তিশালী প্রাসঙ্গিকতা রাখে।

শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ঐতিহাসিক ছেঁউড়িয়া লালন একাডেমি প্রাঙ্গণে জাতীয় পর্যায়ে লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজন করে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়।

উপদেষ্টা আরও বলেন, এবারই প্রথমবারের মতো ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস দলীয় প্রভাবমুক্ত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে। এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যা দেশের জন্য গৌরবের। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের ধারণা, লালনের দর্শন ও অবদান কেবল জাতীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকুক, ভবিষ্যতের সরকার সকলের জন্য মানবতার এই মহান বার্তাকে সম্প্রীতি ও সম্মানের সঙ্গে রক্ষা করবে। কারণ, লালন কেবল কোনো দলীয় আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করেন না, তিনি মানবতার প্রতীক।

ভিডিও বার্তায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি বলেন, লালন সাঁই আমাদের দেশের অন্যতম বিশিষ্ট দার্শনিক ও ভাবুক। তার জীবনদর্শন ও আদর্শ আমাদের আত্মীকরণ করাই প্রয়োজন। এবারের মতো প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে লালনের তিরোধান দিবস উদযাপিত হচ্ছে, যা আমাদের জন্য গর্বের ও গৌরবের বিষয়।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মফিদুর রহমান। পাশাপাশি বক্তৃতা করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান লেখক ও গবেষক লালন বক্তৃতার মূল আলোচক প্রফেসর গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, বিশিষ্ট কবি, লেখক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ আল মামুন। এই সময় স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন।

তিনদিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লালন অনুসারী, সাধক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন। লালনের জীবন দর্শন, মানবতা ও সাম্যের বাণীকে জাতীয়ভাবে স্মরণ ও উদযাপনের উদ্দেশ্যে এ অনুষ্ঠানটি প্রতিবছরই যথাযোগ্য ভাবগম্ভীর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।