ঢাকা | সোমবার | ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

পাঁচটি কারখানা পেল পরিবেশবান্ধব সনদ

বাংলাদেশের টেকসই পোশাক উৎপাদনে বৈশ্বিক নেতৃত্ব আরো শক্তিশালী হয়েছে, কারণ নতুন করে পাঁচটি কারখানা লাভ করেছে লিড (লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন) সার্টিফিকেশন। এই সংযোজনের ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের সর্বমোট ২৬৮টি লিড-সার্টিফায়েড কারখানার মধ্যে স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ১১৪টি পেয়েছে প্লাটিনাম এবং ১৩৫টি পেয়েছে গোল্ড সার্টিফিকেশন।

এই অর্জনের ফলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও জ্বালানি দক্ষতার ধারাবাহিক অঙ্গীকার আরও দৃঢ় হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ সর্বোচ্চ রেটপ্রাপ্ত লিড সার্টিফায়েড কারখানার মধ্যে ৬৮টি বাংলাদেশে অবস্থিত, যা দেশের পরিবেশ ও টেকসই উৎপাদন ক্ষেএে অগ্রগতির প্রমাণ।

নতুন এই পাঁচটি কারখানা হলো: পাকিজা নিট কম্পোজিট লিমিটেড, সাভার, ঢাকা — যেখানে এক্সিস্টিং বিল্ডিং ক্যাটাগরিতে ৮৭ পয়েন্ট নিয়ে লিড প্লাটিনাম সার্টিফিকেশন লাভ করেছে। ফ্যাশন পালস লিমিটেড, বিসিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট, ঢাকা — এই কারখানাও একই ক্যাটাগরিতে ৮৭ পয়েন্ট পেয়ে পেলে লিড প্লাটিনাম। আরো রয়েছে গাভা প্রাইভেট লিমিটেড, প্লট ১১৪১২০, ঢাকা — এই কারখানাও ৮৭ পয়েন্টে লিড প্লাটিনাম সার্টিফিকেশন পেয়েছে।

চট্টগ্রামে অবস্থিত ভিজুয়াল নিটওয়্যারস লিমিটেড, যেখানে এক্সিস্টিং বিল্ডিং ভি৪.১ ক্যাটাগরিতে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে লিড গোল্ড সার্টিফিকেশন অর্জন করা হয়েছে। এছাড়াও, ট্যালিসম্যান পারফরম্যান্স লিমিটেড, সিইপিজেড, চট্টগ্রাম — এই কারখানা নিউ কন্সট্রাকশন ক্যাটাগরিতে ৬২ পয়েন্ট পেয়ে লিড গোল্ড পেয়েছে।

এই নতুন সার্টিফিকেশনগুলো দেশের পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার ধারাবাহিকতা আরও বাড়িয়েছে। গত এক দশকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গ্রহণ করে সবুজ বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।

লিড-সার্টিফায়েড কারখানাগুলি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইইউজিবিসি)-এর পরিশীলিত ও কঠোর টেকসই মানদণ্ড অনুসরণ করে থাকে। এসব মানদণ্ডে জ্বালানি ও পানির দক্ষ ব্যবহার, কার্বন নির্গমন হ্রাস, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক অন্তর্ভুক্ত।

বিশ্লেষকরা এই সফলতার জন্য উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) ভূমিকা এবং সরকারের সবুজ শিল্পায়নে সমর্থনকারী নীতিমালাকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন। এই ধারাবাহিক অগ্রগতি বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি করে দেশের বিশ্বস্ত ও দায়িত্বশীল উৎপাদন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি তৈরিতে সহায়ক হয়ে উঠছে। এমনকি, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিল্প উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামনে এগিয়ে চলা, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।