ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জসিমের ২৭ বছর চলে গেল

ঢাকাই সিনেমার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নায়ক জসিমের মৃত্যু আজ থেকে ২৭ বছর আগের কথা। ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবরে আকস্মিকভাবে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। এই মহান অভিনেতার অবদান বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে অবিস্মরণীয়। তার অনবদ্য অভিনয়, বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্যের উপস্থাপন আজও দর্শকদের হৃদয়ে অমলিনভাবে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। বিএফডিসিতে তার নামে রয়েছে ‘মুক্তিযোদ্ধা চিত্রনায়ক জসিম ফ্লোর’, যেখানে প্রতিবছর তার জন্য শ্রদ্ধা জানানো হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে তিনি মেজর হায়দারের নেতৃত্বে ২ নম্বর সেক্টরে লড়াইয়ে অংশ নেন। দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর, ১৯৭২ সালে তিনি প্রথম রূপালি পর্দায় পা রাখেন ‘দেবর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। তার পথচলা শুরু হয় আরও অনেক আগে, যখন তিনি ‘এক্সট্রা আর্টিস্ট’ হিসেবে চলচ্চিত্রে কাজ করতেন। সেই সময়ের এক সাক্ষাৎকারে নিজেই উল্লেখ করেছেন সেই বিষয়টি। অসাধারণ এই অভিনেতাকে নিয়ে চলচ্চিত্রের অনেক শিল্পীর স্মৃতি রয়েছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম পারভেজ গাঙ্গুয়া। ঢাকার পল্টনে একটি বেকারির দোকানে যাত্রা শুরু সেই পরিচয়ের মাধ্যমে, যা থেকে তিনি চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। গাঙ্গুয়া বলেন, জসিম ভাই আমাকে হাতে কলমে অভিনয় শেখাতেন। প্রথমবারের মতো তিনি আমাকে ‘আক্রোশ’ ছবিতে অভিনয় করতে দেখেন এবং খুবই খুশি হন। এরপর আরও অনেক ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে কাজ করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার প্রথম উল্লেখযোগ্য ছবি হলো ‘মাস্তান রাজা’, যা তার ক্যারিয়ারে নতুন আলো নিয়ে আসে। তিনি তার হাতে শেখানো অভিনয় কৌশল প্রয়োগ করে মান্নার সঙ্গেও কাজ করেছিলেন। আরও অনেক শিল্পী, যেমন মান্না ও নায়ক এনায়েত করিম, জসিমের কাছ থেকে শেখা অভিজ্ঞতাগুলোর মূল্য দিয়েছেন। গাঙ্গুয়া বলেন, জসিম ভাই ছিল একজন মানবিক ব্যক্তিত্ব, যিনি সহকর্মীদের প্রতি অনেক ভালোবাসা দেখাতেন। সিনেমার ফাইটারদের জন্য সংগঠন চালু করেছিলেন এবং তাঁদের প্রয়োজনের সময় পাশে থেকেছেন। একজন জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে তিনি শুধু অভিনয়েই নয়, মানুষের জন্য সত্যিই এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন।