ফুলন দেবীর জটিল ও ঘটনাবহুল জীবনী নিয়ে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহী—অসংখ্য বই ও চলচ্চিত্র তার কথা বলেছে, তবু জীবনের অজানা দিকগুলোর কৌতূহল কমেনি। সেই ধারা ধরে প্রখ্যাত নির্মাতা রিচি মেহতা এবার নতুন এক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে জীবনের সেই অন хвেষণীয় অধ্যায় তুলে এনেছেন। ‘‘ফুলন’’ শিরোনামের এই ছবি নির্মাণের খবর প্রকাশের পর থেকেই চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে।
নির্মাতা রিচি মেহতার এই প্রত্যাশিত ছবিটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে মর্যাদাবান টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (টিআইএফএফ)-এ, যা আগামী সেপ্টেম্বর মাসে কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হবে। টিআইএফএফ-এর আলোয় প্রথমবার প্রদর্শিত হয়ে সিনেমাটি আন্তর্জাতিক সমালোচক ও দর্শকদের নজরে আসবে—এমনটি চলচ্চিত্রটির বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উৎসবের পর সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে না গিয়ে সরাসরি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে। বিশ্বের বহু দর্শকের সুবিধার্থে নির্মাতারা ফিল্মটি অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে আনুষ্ঠানিকভাবে রিলিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে অ্যামাজন প্রাইম প্রযোজনা পর্যায়েই সরাসরি যুক্ত থাকায় ছবির নির্মাণশৈলী ও পরিসরের কথা থেকেই এর উচ্চমানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। উৎসব শেষে প্রাইম ভিডিওর মাধ্যমে ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক দর্শকরাও ফুলন দেবীর জীবনীভিত্তিক এই গল্প দেখতে পারবেন।
চলচ্চিত্রের কাহিনি গড়ে উঠেছে ফুলন দেবীর প্রখ্যাত আত্মজীবনী ‘আই, ফুলন’-এর ওপর ভিত্তি করে। সিনেমায় নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে এক প্রান্তিক নারীর সামাজিক অবহেলা, বঞ্চনা ও তা থেকে জন্ম নেওয়া প্রতিক্রিয়া—কীভাবে তিনি সমাজের চোখে একজন ডাকাতের রূপ নেন, তার কঠোর বাস্তবতা ছবিতে চলমানভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ফুলনের ভূমিকায় দেখা যাবে প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেত্রী স্নেহা কুমারীকে। এছাড়া ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনুরাগ ঠাকুর, বিক্রম প্রতাপ সিং, আকাশ দাহিয়া এবং দেবদত্ত প্রমুখ প্রতিভাবান শিল্পীরা। তাদের সংযোজন ও মেহতার নির্মাণদক্ষতা মিলিয়ে ছবিটি সামাজিক পারিপার্শ্বিকতা এবং মানবিক দ্বন্দ্বকে শক্তভাবে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি রাখে।
টরন্টোতে প্রিমিয়ারের পর বিশ্বব্যাপী মুক্তির আগে ছবিটি যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়াবে, তা নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ফুলন দেবীর জীবন ও সংগ্রামের নতুন এই চিত্রায়ন দেখতে—যা অনেকে আশা করছেন শুধু ইতিহাসই নয়, এক মানবিক কাহিনীর সংবেদনশীল ও বাস্তবসম্মত উপস্থাপনা হবে।














