ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার পর মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খোকা বহিষ্কার

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত ইসলাম সাগরের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার (১৯ জুলাই) এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম নিশাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওশাদ এই বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেছেন। খোকাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব ধরনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনা আলাদা করে আলোচনায় এসেছে গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যা থেকে রাতের সময় মিঠামইনে বিএনপির স্থানীয় নেতা জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে তাঁর বাড়ির সামনে সশস্ত্র হামলায় হত্যা হওয়ার ঘটনার পর। মৃত্যুর সময় স্থানীয়রা এক সন্দেহভাজনকে চাপাতিসহ ধরে রাখে; পরে পুলিশ অভিযান করে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্তসংক্রান্ত সূত্র বলছে, হামলাটি পরিকল্পিতভাবে মাত্র সো লেক বা এক মিনিটের মধ্যে ঘটানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলায় অংশ নেওয়া তিন ব্যক্তি ঢাকা থেকে তিন দিন আগে মিঠামইনে এসে অবস্থান নেন এবং তারা জাহাঙ্গীরের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ ফুট দূরের একটি বাড়িতে অতিথি হিসেবে ছিলেন। ওই বাড়িটি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মোকাররম হোসেন খোকার বড় ভাইয়ের বলে স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, হত্যায় জড়িত কয়েকজনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে বের করে আনা হয়েছিল। তারা দাবি করেছেন, মোকাররম হোসেন খোকাকে গ্রেপ্তার করলে পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা এবং অন্যান্য সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ঘটনার পর থেকেই খোকা ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে মিঠামইন থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনজনকে নাম করে মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে নাম থাকা তিনজন হলেন: বরগুনার বামনার মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম (শাকিল) (২৭)।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রাতে স্থানীয়রা মো. হেলালকে আটক করে। একই রাতে অভিযান করে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলমকে (শাকিল) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া শেখেরহাটি গ্রামের ইমাম হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন (৪০) ও কাজীপাড়া গ্রামের মৃত চান্দা আলীর ছেলে আব্দুর রউফ (৬৭)-কেও গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিই কারাগারে আটক রয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই পাঁচ আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত-৪ের বিচারক সঙ্গিতা ভট্টাচার্য রিমান্ড আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রত্যেক আসামির জন্য তারা সাত দিনের রিমান্ড দাবি করেছিলেন; শুনানিতে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বুধবার রাতে পৌনে দশটার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় বাসায় প্রবেশের সময় আগে থেকেই ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী ধারালো চাপাতি, কিরিচ, কুড়ালি ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাহাঙ্গীরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও সহযোগীদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেছেন, মামলার তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে।