ঢাকা | শুক্রবার | ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

উগ্রবাদ ও চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই উগ্রবাদ ও চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেবে না। তিনি এ সিদ্ধান্তে দৃঢ় ও অটল থাকবেন বলে আশাব্যঞ্জক মনোভাব ব্যক্ত করেন এবং জাতীয় ঐক্য রক্ষায় সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের সমাপ্ত অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সব ধরনের উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এই অবস্থানের পথে সংসদের বিরোধী দলও পুরোপুরি সহযোগিতা করবে বলে তার বিশ্বাস। সমাপনী অধিবেশন সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

দুর্নীতি দমনেও সরকারের দৃঢ় মনোভাব তুলে ধরে তিনি জানান, স্বৈরাচারী শাসনের সময়ে দুর্নীতির কারণে প্রতিবছর দেশ থেকে বিশাল পরিমাণ অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে — এক পর্যায়ে বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত। দেশের অধিকাংশ সমস্যার মূল কারণ হিসেবে তিনি এই ধরনের দুর্নীতি চিহ্নিত করেন।

তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাবোধ করবে না — উচিত হলে হাত বেঁধে হোক, টুঁটি চেপে হোক, যেভাবেই হোক এই বেআইনি প্রবাহ রোধ করা হবে। পাশাপাশি জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও পেশাদার ও যোগ্য করার উদ্যোগ ছাড়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার গুরুত্বে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘মতভিন্নতা থাকবে, তা স্বাভাবিক—তবে তা শত্রুতা হিসেবে গণ্য করা হবে না। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ নয়, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধানের চেতনায় ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে সংসদের বিরোধী ও সরকারি দল মিলেই দেশের এই ঐক্য রক্ষা করবে যাতে বাংলাদেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচারের কবলে না পরে।

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যগুলো বর্তমান সরকারের নীতি ও সংকল্পের প্রতিফলন — যে দেশের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক ঐক্য রক্ষা করা তার অগ্রাধিকার।