যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মাঝেই দুই অবরোধের মধ্যবর্তী চার সপ্তাহে ইরান ৮০ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে বেশি অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য রপ্তানি করেছে। সামুদ্রিক যান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ট্যাংকারট্যাকার্স সোমবার (১৩ জুলাই) এই তথ্য প্রকাশ করেছে এবং বলেছে, এসব রপ্তানির ফলে ইরানের আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এত বড় পরিমাণ জ্বালানি ইতিমধ্যেই রপ্তানি করা হলেও এখনো কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানির অপেক্ষায় রয়েছে। তারা জানিয়েছে যে মার্কিন নৌবাহিনী নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই পুনরায় অবরোধ কার্যকর করতে পারে, এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এখনও রপ্তানির অপেক্ষায় রয়েছে। ট্যাংকারট্যাকার্স আরও জানিয়েছে, যদি ইরান তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয় তবে অবরোধ অঞ্চলের মধ্যেই ৬০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল ভাসমান অবস্থায় মজুদ রাখার সক্ষমতা রয়েছে।
একই সময়ে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত নাটকীয়ভাবে তীব্র রূপ নিয়েছে। গত সোমবার দুদেশই একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা থেকে) যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে।
এই সংঘাতের সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। মাঝের এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছিল দুপক্ষ, কিন্তু গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজে হামলার পর পরিস্থিতি আবার কড়া হয়ে ওঠে। রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরানের অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। তার জবাবে ইরান দাবি করেছে যে কুয়েত, বাহরাইন, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে তারা হামলা করেছে।
এই উত্তেজনা তেলের বিশ্ববাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অবরোধ ও পাল্টা প্রতিশোধের ঘটনার ফলে রপ্তানি ও জাহাজ চলাচলে আরও বেশি উদ্বেগ বাড়তে পারে।














