চলমান ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা স্পেন এখন এমন এক বিশ্বরেকর্ড গড়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে, যা গত ৯৬ বছরের আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসে এখনও কেউ ছোঁয়ায় আনতে পারেনি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্বে খেলা পর্তুগালকে ১-০ হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর লা রোহারা এখনও এই টুর্নামেন্টে একটিও গোল হজম করেনি।
এই আসরে অংশ নেওয়া অন্য সব দলই কম-বেশি গোল খেয়েছে — লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা একমাত্র ব্যতিক্রম। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে এবং নকআউট পর্বের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই পার করে স্পেন তাদের জালের সুরক্ষা অটুট রাখতে সক্ষম হয়েছে।
গ্রুপ স্টেজ থেকে শুরু করে শেষ ১৬-এ পর্যন্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর স্ট্রাইকারই স্পেনের রক্ষণভাগ ভেদ করতে পারেনি। গোলকিপার উনাই সিমনের সেলিব্রেটেড সেভ এবং স্প্যানিশ ডিফেন্সের অনড় কনসিস্টেন্সি প্রতিপক্ষের আক্রমণ বারবার নিরর্থক করে তুলেছে।
বিশ্বকাপের লংহাইস্টোরিতে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে কোনো দল চ্যাম্পিয়ন বা রানার-আপ হয়ে একটাও গোল না খেয়েই ফিনিশ করেছে—এমন বিস্ময়কর ঘটনা আগে দেখা যায়নি। স্পেন যদি তাদের রক্ষণাত্মক ধারা বজায় রেখে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, তা হলে এটি নিশ্চিতভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডিং রেকর্ড হবে।
কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ক্রীড়ার দৃষ্টি এখন একটাই প্রশ্নের ওপর—লুইস দে লা ফুয়েন্তার দল হিসেবে স্পেনের এই অভেদ্য দুর্গকে কে প্রথম ভাঙবে, নাকি স্পেন গোল না খেয়ে বিশ্বজয় করে ফুটবলের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় রচনা করবে?














