ঢাকা | সোমবার | ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

৪৩ খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানি প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত রাখল সরকার

দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে গতিশীল রাখতে এবং রপ্তানিকারকদের উৎসাহিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৩টি খাতে রপ্তানি প্রণোদনা বা নগদ সহায়তার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত পণ্যসমূহের ক্ষেত্রে প্রণোদনা হার পণ্যভেদে ০.৩০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত রাখা হয়েছে। এই সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে।

বস্ত্রখাতে রপ্তানি উৎসাহে বিভিন্ন সহায়তা বহাল রাখা হয়েছে। রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতের জন্য বিকল্প নগদ সহায়তা ১.৫০ শতাংশ ও ইউরো অঞ্চলের বাজারে অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা ০.৫০ শতাংশ বজায় আছে। তৈরি পোশাক খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে ৩ শতাংশ অতিরিক্ত সুবিধা এবং নতুন পণ্য বা নতুন বাজারে সম্প্রসারণে ২ শতাংশ সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ নগদ সহায়তা ০.৩০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

কৃষি ও পাটখাতেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য এবং আলু রপ্তানিতে ১০ শতাংশ প্রণোদনা বহাল থাকবে। বৈচিত্র্যকৃত পাটপণ্য ও চামড়াজাত পণ্যে ১০ শতাংশ, এবং হস্তশিল্প পণ্যে ৬ শতাংশ সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রযুক্তি ও фар্মা খাতেও সহায়তা আছে—সফটওয়্যার ও আইটি-এনাবলড সার্ভিসেস (আইটিইএস) রপ্তানিতে ৬ শতাংশ ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা রাখা হয়েছে। ওষুধ বা ফার্মা খাতে ৬ শতাংশ ও অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) রপ্তানিতে ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। জাহাজ রপ্তানিতে ৬ শতাংশ এবং ফার্নিচার রপ্তানিতে ৮ শতাংশ হারও অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই প্রণোদনা সুবিধা পেতে রপ্তানিকারককে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসন করতে হবে এবং বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের শর্ত পূরণ করতে হবে। এছাড়া প্রতিটি রপ্তানি প্রণোদনার আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত অডিট ফার্ম দ্বারা যথাযথভাবে নিরীক্ষা করানোর বিধান রাখা হয়েছে।

নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ফলে রপ্তানিকারারা বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।