ঢাকা | সোমবার | ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জিএম কাদের: দেশে দমন-পীড়ন ও বৈষম্য আরও তীব্র হয়েছে

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলছেন, বর্তমান সরকার আগের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের পথেই হেঁটে যাচ্ছে এবং দেশের রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন ও বৈষম্য আরও তীব্র রূপ ধারন করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি দ্রুতভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নিশ্চিত না করা হয় তাহলে বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদল অনিবার্য হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-২০২৬’র পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

একজন আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংকের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জিএম কাদের বলেন, জনমতের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠিত হওয়া সবসময় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেয় না। যদি রাজনৈতিক দলগুলোকে একীভূত করা না যায় এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব না দেয়া হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।

সরকারের নীতিমালা ও কর্মধারা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে যে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের চেতনাটি দেখা গিয়েছিল, সেই চেতনা এখনকার রাষ্ট্রপরিচালনায় লক্ষ্য করা যাচ্ছিল না। বরং ওই চেতনার নাম করে নতুনভাবে বৈষম্য ও দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে।

জিএম কাদের আরও বলেন, রাজনৈতিক ভিন্নমত পোষণকারীদের রাস্তায়-ঘাটে হয়রানি করা, হাটবাজারে বাধা দেওয়া এবং আইনগতভাবে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো কার্যক্রম ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রকাশ। বিশেষ করে একেকটি দলকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়ে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা যায় না; বরং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি।

তিনি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন এবং জানান, এই দায়ভার সরকার এড়াতে পারবেন না। তরুণ সমাজ ব্যাপকভাবে হতাশাগ্রস্ত—তাদের সামনে কর্মসংস্থান নেই, ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়—ফলে অনেকেই মাদক, অপরাধের দিকে ঝুঁকছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জিএম কাদেরের বক্তব্যের সারমর্ম—রাজনৈতিক বৈচিত্র্য প্রশ্রয় না পেলে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা না দিলে দেশের গতি ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে; সময়ই বলবে, সরকারের সামনে এখন দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াও কোনো বিকল্প নেই।